


সংবাদদাতা, বোলপুর: রাজ্যজুড়ে অব্যাহত ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা। বুধবার সকালে বোলপুরে নিজের বাড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ। তিনি বলেন, ভোটের ফলের দিন বিকেল থেকে যারা শান্তির বাংলা প্রতিষ্ঠার কথা বলেছিল, বাংলার বেশিরভাগ মানুষ তাদের বিশ্বাস করেছে, তাদের ভোট দিয়েছে। কিন্তু তারা যেভাবে বীরভূমের নানা জায়গায় বাড়ি ভাঙচুর, মারধর, লুট করেছে, এটা মেনে নেওয়া যায় না। সেই সঙ্গে তিনি আবেদন করেন, বিজেপি যেন সুষ্ঠুভাবে সরকার চালায়। আমরা বিরোধীদের আসনে বসব। সহযোগিতা করব যাতে সরকার চালাতে সুবিধা হয়। অশান্তির বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে গেলে আমরাও রাস্তায় নামব, সেই বার্তাই দিতে চাই। নানুরে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনায় তিনি বলেন, আমরা মৃতের আত্মার শান্তি কামনা করছি। দোষীদের বিরুদ্ধে সঠিক বিচার চাই।
এছাড়াও ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিজেপি কর্মীর দোকানে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের কাউন্সিলারের বিরুদ্ধে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, এলাকায় সিসিটিভি রয়েছে। আমি প্রশাসনকে সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখতে বলেছি। তিনি বলেন, যেখানে চারিদিকে বিজেপির তরফে আমাদের কর্মীদের উপর আক্রমণ চলছে, তারা আত্মরক্ষার চেষ্টা করছে। সেখানে আমাদের কর্মীরাই বিজেপি কর্মীর দোকানে আগুন লাগাবে, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়।
বিজেপির অন্দরের পরিস্থিতি নিয়েও কটাক্ষ করেন চন্দ্রনাথ সিংহ। তাঁর কথায়, এখনো মুখ্যমন্ত্রী ঠিক হয়নি, তার আগেই ওদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। কে আসল নেতা, সেটাই বোঝা যাচ্ছে না। আমার বিধানসভায় বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বলে কিছু নেই। কিছু আইএসএফ কর্মী ছিল, তারাই এখন বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি করছে।
অন্যদিকে, বিজেপির বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি শ্যামাপদ মণ্ডল বলেন, আমাদের দল যথেষ্ট শৃঙ্খলাপরায়ণ। এখন বিজেপি জিততেই কিছু তৃণমূলের দুষ্কৃতী বিজেপির পতাকা নিয়ে এসব অশান্তি করছে। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের হিংসা না ছড়ানোর বার্তা দিয়েছি। ভারতীয় জনতা পার্টির এটা সংস্কৃতি নয়। তৃণমূলের অপশাসন দূর করে এবার বাংলায় সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হতে চলেছে।