ডাকঘর: এজেন্সি নবীকরণে পুলিশ ভেরিফিকেশনে জটিলতার অভিযোগ
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ডাকঘরের স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পের এজেন্টদের প্রতি তিন বছর অন্তর এজেন্সি নবীকরণ করতে হয়। তার জন্য দরকার হয় পুলিশের ভেরিফিকেশন রিপোর্ট। এজেন্টরা যেহেতু সাধারণ মানুষের সঞ্চয় বা নগদ টাকা নিয়ে কাজ করেন, তাই এই প্রথা চালু আছে রাজ্যে। ডাকঘরের স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলির এক্তিয়ার কেন্দ্রীয় সরকারের হলেও তার এজেন্ট নিয়োগ এবং এজেন্সি রিনিউ বা নবীকরণের দায়িত্ব রাজ্য অর্থদপ্তরের আওতাধীন স্বল্প সঞ্চয় বিভাগের। এজেন্টদের অভিযোগ, বর্তমানে রাজ্যের কিছু এলাকায় এজেন্সি নবীকরণের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টের বদলে অনলাইনে পুলিস ক্লিয়ারেন্স সার্টিফেকেট চাওয়া হচ্ছে। এই গেরোয় আটকে আছে হাজার হাজার এজেন্টের নবীকরণ। থমকে আছে স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে টাকা জমা করার কাজ। তবে স্বল্প সঞ্চয় বিভাগের বক্তব্য, এটি আমাদের বিষয় নয়। পুলিশের অনুরোধেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে। 

Advertisement

সমস্যা কোথায়? ওয়েস্ট বেঙ্গল স্মল সেভিংস এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নির্মল দাস বলেন, ‘২০১৪ সাল থেকে এরাজ্যে পুলিস ভেরিফিকেশন রিপোর্ট ব্যবস্থা চালু হয়। এক্ষেত্রে পুলিশের কাছে এজেন্টদের তথ্য ডাকযোগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যদি পুলিস সংশ্লিষ্ট এজেন্ট সম্পর্কে কোনও বিরূপ তথ্য না জানায়, তাহলে ধরে নেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট এজেন্টের ব্যাপারে পুলিশের কোনও অভিযোগ নেই। ১০ দিনের মধ্যে পুলিসের থেকে কোনও বিরূপ জবাব না এলে এজেন্সির নবীকরণ হয়ে যায়। প্রতিটি জেলায় স্বল্প সঞ্চয় অফিস আছে রাজ্য অর্থদপ্তরের আওতায়। সেখান থেকেই ওই নবীকরণ হয়।’
নির্মলবাবুর অভিযোগ, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হাওড়া থেকে তাঁরা অভিযোগ পাচ্ছেন, পুলিস ভেরিফিকেশনের পুরোনো নিয়ম খাটছে না। সেখানে এজেন্টদের থেকে অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে। এর অর্থ, গোটা প্রক্রিয়াটি অনলাইনে করতে হবে এজেন্টকে। পুলিশকে সব তথ্য তাঁকে পাঠাতে হবে। পুলিশ মনে করলে তাঁদের হেনস্তাও করতে পারে। এরপর অনলাইনে পুলিশ রিপোর্ট দেবে স্বল্প সঞ্চয় দপ্তরকে। নির্মলবাবুদের অভিযোগ, পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ব্যবস্থা তো চালু আছে সরকারি কর্মচারীদের জন্য। এজেন্টরা সরকারি কর্মী নন। তাছাড়া এজেন্সি নবীকরণের গোটা প্রক্রিয়াটি হয় অফলাইনে। এক্ষেত্রে যদি অনলাইনে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স লাগে, তাহলে নবীকরণের গোটা প্রক্রিয়াটিই অনলাইনে হোক। নির্মলবাবুরা এ প্রসঙ্গে অভিযোগ জানিয়ে রাজ্য স্বল্প সঞ্চয় দপ্তরকে চিঠি লিখেছেন। কিন্তু কোনও সদুত্তর মেলেনি বলেই জানিয়েছেন তাঁরা। নির্মলবাবুর কথায়, ‘এ সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা দেখতে চেয়েছি আমরা। কিন্তু তা দেখাতে পারেনি দপ্তর। অথচ জেলা অফিস গোঁ ধরেছে, তারা পুরোনো নিয়ম মানবে না। এই হয়রানির সমাধান চাই আমরা।’