Bartaman Logo
১৯ জুলাই, ২০২৬

বিহারে টোটোচালককে মারের পর থুতু চাটালেন পুলিস কর্তা

টোটোচালককে মারধর করার পর থুতু চাটানোর অভিযোগ উঠল পুলিস আধিকারিকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের শেখপুরা জেলার মেহুস গ্রামে।

বিহারে টোটোচালককে মারের পর থুতু চাটালেন পুলিস কর্তা
  • ৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

পাটনা: টোটোচালককে মারধর করার পর থুতু চাটানোর অভিযোগ উঠল পুলিস আধিকারিকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ঘটনাটি ঘটেছে বিহারের শেখপুরা জেলার মেহুস গ্রামে। বিষয়টি সামনে আসতেই অভিযুক্ত পুলিস আধিকারিক প্রবীণচন্দ্র দিবাকরকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে থামানো যাচ্ছে না বিতর্ক। টোটোচালক প্রদ্যুম্ন কুমার জানিয়েছেন, মঙ্গলবার মেহুস গ্রামে তিনি যাত্রী নিয়ে যাচ্ছিলেন। সেই পথেই মোটর সাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলেন মেহুস থানার ইন-চার্জ প্রবীণ। তবে তিনি সাদা পোশাকে ছিলেন। হঠাৎই তিনি প্রদ্যুম্নকে থামতে বলেন। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে ওই পুলিস আধিকারিক নানা কটূ মন্তব্য করেন। শুরু হয় বচসা। তার পরেই পুলিসের গাড়ি ডেকে প্রদ্যুম্নকে গ্রেপ্তার করেন প্রবীণ। তার আগে রাস্তায় ফেলে টোটোচালককে বেধড়ক লাঠিপেটা করা হয়। এতে গুরুতর জখম হন প্রদ্যুম্ন। সূত্রের খবর, প্রথমে প্রদ্যুম্নকে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর মামলা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে মদ খাওয়ার প্রমাণ না মেলায় আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন প্রবীণ।

Advertisement

থানায় নিয়ে এসে আরও একপ্রস্থ মারধর চলে। এরপর টোটোচালককে তাঁর জাত জিজ্ঞাসা করেন পুলিস আধিকারিক। প্রদ্যুম্ন জানান, তিনি ব্রাহ্মণ। তখন প্রবীণ বলেন, ‘আমি ব্রাহ্মণদেরও পছন্দ করি না।’ তার পরেই থানার মেঝেতে থুতু ফেলে প্রদ্যুম্নকে চাটতে বাধ্য করেন ওই পুলিস আধিকারিক। শারীরিক এবং মানসিকভাবে বিধ্বস্ত প্রদ্যুম্ন বর্তমানে শেখপুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের বেডে শুয়েই তিনি বলেন, ‘পরিবারের কথা ভেবে প্রতিদিন আমি কঠোর পরিশ্রম করি। আমার সঙ্গে যা হয়েছে, কিছুতেই ভুলতে পারছি না। আমার জাত জিজ্ঞাসা করে থুতু চাটতে বাধ্য করা হল। এটাই কি মানবিকতা?’ গোটা বিষয়টি স্থানীয় বিধায়ক সুদর্শন কুমারকে জানান প্রদ্যুম্ন। ঘটনার স্বাধীন এবং নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়েছেন সংযুক্ত জনতা দলের বিধায়ক সুদর্শন। স্থানীয়রাও অভিযুক্ত পুলিস আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। চাপে পড়ে পুলিস সুপার বালিরাম চৌধুরী বলেন, ‘তদন্তে সত্যতা ধরা পড়ার জন্য ওই পুলিস আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।’ তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত পুলিস আধিকারিক। প্রবীণ বলেন, ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ। ওই টোটোচালক মেয়েদের উত্যক্ত করছিল।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ