নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মকর সংক্রান্তি কিংবা মৌনি অমাবস্যার মতো হাই ভোল্টেজ শাহি স্নানে যে তিনি যাবেন না, এটা নিয়ে সংশয় ছিল না। কারণ দেড় মাস ধরে কুম্ভমেলায় শাহি স্নান পাঁচটি হলেও আদতে প্রথম দুটি স্নানকে ঘিরে উন্মাদনা চিরকালই বেশি। এই দুই স্নানমহাত্ম্যের কারণে সবথেকে বেশি ভিড়ও হয় এই দুদিন। ভিড়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীও কুম্ভে হাজির হলে সুরক্ষা নিয়ে চিন্তা বাড়ত। তাই নরেন্দ্র মোদির এই দুই কুম্ভস্নানে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। কিন্তু মনে করা হচ্ছিল, বাকি তিনটি মাহেন্দ্রক্ষণ অর্থাৎ বসন্তপঞ্চমী, মাঘী পূর্ণিমা এবং শিবরাত্রির তিন শাহি স্নানের একটিতে তিনি যাবেন প্রয়াগে। কিন্তু সেই জল্পনায় জল ঢেলে মোদি বেছে নিলেন ৫ ফেব্রুয়ারিকে। যেদিন কোনও শাহি স্নান নেই। কোনও বিশেষ তিথিনক্ষত্রও নয়। ধর্মীয়ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ না হলেও এই দিনটি রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অবশ্য। কারণ সেদিনই দিল্লির ভোট। আর ঠিক এই কারণেই প্রবল জল্পনা ও চর্চা শুরু হয়েছে যে, মোদি কি শেষ পর্যন্ত দিল্লি জয়ের মনস্কামনায় কুম্ভস্নানের দিন স্থির করলেন? পূর্ণকুম্ভের প্রয়াগে সঙ্গমে স্নান করে তিনি ৫ তারিখেই অমৃত সন্ধানে মরিয়া? যদিও বিজেপি সূত্রে বলা হচ্ছে, দিল্লির ভোটের সঙ্গে এই দিন নির্ধাণের সম্পর্কই নেই। কুম্ভমেলায় প্রবল ভিড় সামলাতে পুলিশ ও প্রশাসন নাজেহাল। প্রায় নিত্যদিন রাজনীতি থেকে বিনোদন জগতের ভিআইপিরা যাচ্ছেন। স্নান করছেন। আর শাহি স্নানের দিনগুলিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখাই বড়সড় চ্যালেঞ্জ। তাই ইচছাকৃতভাবেই প্রধানমন্ত্রী কোনও শাহি স্নানের দিনই কুম্ভমেলায় উপস্থিত হবেন না বলে স্থির করেছেন। সাধারণ দিনে, যাতে অতিরিক্ত জনতার ভিড় না থাকে সেটা নিশ্চিত করে দিন বাছাই করা হয়েছে। কিন্তু দিল্লির রাজনৈতিক মহলে আলোচনা তুঙ্গে যে, তাঁর হাত ধরেই যাতে ২৭ বছর পর বিজেপির দিল্লি বিজয় সম্পন্ন হয়, সেই মনস্কামনায় বিভোর মোদি। তাই নিজে বারাণসীর এমপি এবং পরম শিবভক্ত হওয়া সত্ত্বেও শিবরাত্রির দিন কুম্ভস্নানে না গিয়ে, ৫ ফেব্রুয়ারি যাচ্ছেন। কারণ শিবরাত্রির দিন তিনি বারাণসী অথবা রামেশ্বরমে যেতে পারেন। কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারি তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। এবারও দিল্লি দখল করতে না পারলে সেটা তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ারের অন্যতম বড় ব্যর্থতা হয়ে থেকে যাবে।



