


নয়াদিল্লি: অচেনা জায়গায় ঘুরতে গিয়ে রাস্তা খুঁজে পাচ্ছেন না? বর্তমান সময়ে এমন সমস্যা সমাধানে হাজির জিপিএস। মোবাইল ফোন খুলে ম্যাপ দেখে নিলেই জলদি সন্ধান মিলবে ঠিক রাস্তার। কিংবা অনলাইন অ্যাপে খাবার অর্ডার দিয়েছেন। ডেলিভারি পার্সনের আসতে কত দেরি, তা জানতেও ভরসা সেই জিপিএস। কিন্তু জিপিএসের কাজ কি শুধুই আমাদের দিশা দেখানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ? আইআইটি দিল্লির সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে অন্য কথা। আপনার স্মার্টফোনের জিপিএস শুধু অবস্থান জানিয়েই থামছে না। অনলাইন দুনিয়া প্রকাশ করে দিচ্ছে আপনার যাবতীয় গতিবিধিও। ফোনের নেট অফ রাখলেও এর থেকে সুরাহা নেই। যার জেরে ফোন ব্যবহারকারীর গোপন তথ্যও বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আইআইটি দিল্লির সেন্টার অব এক্সেলেন্স ইন সাইবার সিস্টেম অ্যান্ড ইনফরমেশন অ্যাসিউরেন্সের এম টেক ছাত্র সোহম নাগ এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ডঃ স্মৃতি সারঙ্গি যৌথভাবে একটি গবেষণা চালিয়েছিলেন। তাঁদের সেই গবেষণায় দেখা গিয়েছে, জিপিএস সিগনাল ফ্রিকোয়েন্সির সামান্য তারতম্যেও একজন মানুষ বসে আছেন নাকি শুয়ে আছেন, তা বোঝা সম্ভব। কেউ ভিড় মেট্রোয় বসে আছেন নাকি ফাঁকা ঘরের মধ্যে, এমনকি সেই ঘরটি কত বড়ো, তাও এই জিপিএস সিগনালের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। মোবাইল ফোনে ‘এরোপ্লেন মোড’ চালু থাকলেও, এই ‘নজরদারি’ থেকে বাঁচা অসম্ভব বলেও দাবি করেছেন ওই দুই গবেষক। ‘অ্যান্ড্রোকন: অ্যান অ্যান্ড্রয়েড ফোন-বেসড সেন্সর ফর অ্যাম্বিয়েন্ট, হিউম্যান অ্যাক্টিভিটি অ্যান্ড লেআউট সেন্সিং ইউজিং ফাইন-গ্রেনড জিপিএস ইনফরমেশন’ নামে ওই গবেষণাপত্রটি সম্প্রতি এক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
ডঃ সারঙ্গি বলেন, ‘বহুদিন ধরেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ থাকলেও মোবাইল আমাদের গোপন তথ্য সংগ্রহ করতে থাকে। আমাদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, ব্যক্তিগত তথ্য বাইরে যাওয়ার ক্ষেত্রে জিপিএস অন্যতম মাধ্যম। কারণ এরোপ্লেন মোডে থাকলেও কোনও ফোন জিপিএস তথ্য রিসিভ করতে থাকে।’ তাঁর মতে, ‘যেখানে জিপিএস সিগনাল অত্যন্ত দুর্বল, সেখানেও ফোন ব্যবহারকারীর আশপাশের পরিবেশ কী রকম, তিনি কেমন বাড়িতে থাকেন, তা বোঝা সম্ভব।’ এক বছর ধরে প্রায় ৪০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকায় বিভিন্ন ধরনের স্মার্টফোনের মডেলে একটি বিশেষ ধরনের সেন্সর বসিয়েছিলেন। ওই সেন্সর শুধুমাত্র জিপিএস সিগনালের উপর ‘গোপন নজরদারি’ চালায়। দেখা যাচ্ছে, ওই সিগনাল থেকে ব্যবহারকারীর পরিবেশ, বাসস্থান সম্পর্কে ৯৯ শতাংশ নিখুঁত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। আর মানুষটি কী কাজ করছেন, তা সম্পর্কে ৮৭ শতাংশ নিখুঁত তথ্য মিলেছে।
জিপিএসের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস আটকাতে বেশ কয়েকটি পথও বাতলেছেন গবেষণাকারীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র ‘ভেরিফায়েড’ অ্যাপই ফোনে ডাউনলোড করা উচিত। প্রয়োজন ছাড়া কোনও অ্যাপকে ‘প্রিসাইজ লোকেশন’ অ্যাকসেস দেওয়া উচিত নয়। যে সব অ্যাপ ব্যবহার করা হয়, সেগুলি আনইনস্টল করে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেছেন তাঁরা।