


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কখনও রোজগারে টান, তো কখনও অনিশ্চিত উপার্জন। পছন্দের জিনিস কেনা থেকে সরে আসছেন দেশের সিংহভাগ মানুষ। এমনকি, সিনেমা হলে গিয়ে মুভি দেখা বা বাইরে খেতে যাওয়ার যে প্রবল বাসনা, লাগাম পরাতে হচ্ছে তাতেও। তাহলে আনন্দ করে বাঁচার চাবিকাঠি কী? সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষা বলছে, খুব ছোটোখাটো জিনিস, যা কিনতে কম খরচ হয়, যা অনায়াসে হাতের মুঠোয় আসে, সেগুলিতেই বেঁচে থাকার আনন্দ খুঁজছেন মানুষ।
হাতের মুঠোয় ফোন। তার নানা অ্যাপে ঠাসা দুনিয়ার যাবতীয় পণ্যের হালহদিশ। তারই তত্ত্বতালাশে মজে থাকেন নয়া প্রজন্ম থেকে চাকুরিজীবী অনেকেই। সেখানে কী খোঁজেন তাঁরা? বিশ্বের অন্যতম একটি তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার করা সমীক্ষা বলছে, গত অক্টোবরে উৎসবের মাসে ৬২ শতাংশ মানুষ খুঁজেছেন, সবচেয়ে সস্তায় কোথায় কী পাওয়া যায়। একই পণ্য কোন অ্যাপে তুলনামূলক কম খরচে মিলছে, তার সন্ধানে হন্যে হয়েছেন তাঁরা। প্রায় দু’ বছর আগে সেই হার ছিল ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ দাম নিয়ে মানুষের মধ্য খুঁতখুঁতে স্বভাবটি বেড়েছে। ৭১ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, যেটুকু প্রয়োজন, তার বাইরে খরচ করতে মন চাইছে না তাঁদের। তাই বাতিলের তালিকায় রয়ে গিয়েছে টিভি, ফ্রিজ বা একটা আরও ভালো ফোন কেনার ইচ্ছা। ভুলতে হয়েছে প্রিয় সন্তানকে দামী খেলনা কিনে দেওয়ার স্বপ্ন বা কোনও নামজাদা কোনও রেস্তরাঁয় প্রিয় পদ মুখে তোলার আবদার।
সমীক্ষাটি বলছে, ক্রেতারা দামের ব্যাপারে যতটা সচেতন, ততটাই চিন্তিত ব্র্যান্ড নিয়ে। ভালো ব্র্যান্ড মানেই যে সবসময় লাগামছাড়া দাম হবে, বিশ্বাস করেন না ক্রেতারা। তাঁরা মনে করেন, প্রতিযোগিতার বাজারে নেমেছে ব্র্যান্ডেড পণ্যও। তাই তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যায় ভালো জিনিস। ৭৪ শতাংশ মানুষ মনে করছেন, যে পণ্যটি তাঁরা এতদিন কিনে এসেছেন, বাস্তবে তার প্রতিযোগী ব্র্যান্ডটি আরও ভালো জিনিস বেচছে। ৬২ শতাংশ মানুষ জানাচ্ছেন, প্রতিযোগী ব্র্যান্ডটি এত ভালো প্রচার করেছে, তা তাঁদের চোখ টেনেছে। ৬১ শতাংশ ক্রেতার ধারণা, তাঁর পছন্দের নতুন ব্র্যান্ডটি যেমন কম দামে ভালো জিনিস দিচ্ছে, তেমনই তার সার্ভিস বা ওয়ারেন্টির মতো সুবিধাগুলি আরও ভালো। দু’বছর আগে ৬৩ শতাংশ ক্রেতা জানিয়েছিলেন, তাঁরা ভালো ব্র্যান্ড ছেড়ে শুধুমাত্র কম দামের জন্য অনামী সংস্থার পণ্য কিনছেন। বর্তমানে সেই হার ৪৪ শতাংশে নেমে এসেছে। অর্থাৎ, দামের দিকে নজর থাকলেও ব্র্যান্ড তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে মানছেন তাঁরা।
ছোটোখাটো পছন্দের জিনিস কিনে খরচ কমানো এবং আনন্দ করে বাঁচার সংখ্যা দেশে সিংহভাগ। যে কোনও প্রজন্মের ৬০ শতাংশের বেশি মানুষ সমীক্ষায় মতামত দিয়েছেন এমনটাই। কিন্তু সেই তালিকায় সবার আগে আছেন তাঁরাই, যাঁদের বয়স ৪০ বছরের আশপাশে। সেই হার ৭৫ শতাংশ। যাঁরা সদ্য কেনাকাটার স্বাদ পেয়েছেন, ছোটো বা কমদামি জিনিসে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার মানসিকতা তাঁদের মধ্যে কম, বলছে সমীক্ষা। সেই হার ৬৬ শতাংশ। সমীক্ষাটি আরও একটি তথ্য সামনে এনেছে। তা হল, প্রতি চার জনের মধ্যে একজন তাঁর পছন্দের জিনিসটি বেছে নিতে এআই বা কৃত্রিম মেধার সাহায্য নিচ্ছেন।