Bartaman Logo
১৭ জুন, ২০২৬

পহেলগাঁও: ৩ বছর আগে ভারতে ঢুকেছিল জঙ্গিরা, উদ্ধার পাক নাগরিকত্বের নথি

গত ২৮ জুলাই জম্মু ও কাশ্মীরের দাচিগাম জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনী নিকেশ করেছে তিন জঙ্গিকে। তারা পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছে সরকার।

পহেলগাঁও: ৩ বছর আগে ভারতে ঢুকেছিল জঙ্গিরা, উদ্ধার পাক নাগরিকত্বের নথি
  • ৫ আগস্ট, ২০২৫ ১৬:০৮
Prefer us on Google

শ্রীনগর: গত ২৮ জুলাই জম্মু ও কাশ্মীরের দাচিগাম জঙ্গলে নিরাপত্তা বাহিনী নিকেশ করেছে তিন জঙ্গিকে। তারা পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানিয়েছে সরকার। ‘অপারেশন মহাদেব’ শেষে তল্লাশি চালিয়ে একাধিক নথি ও তথ্য উদ্ধার করেছে বাহিনী।  সেগুলির মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের ভোটার পরিচয়পত্র, করাচিতে তৈরি চকোলেট সহ একাধিক জিনিসপত্র। এর থেকেই স্পষ্ট যে, নিহতরা পাকিস্তানি নাগরিক। তারা জঙ্গি গোষ্ঠী লস্কর-ই-তোইবার সদস্য। পহেলগাঁও কাণ্ডের বছর তিনেক আগে ভারতে ঢুকেছিল তারা। ২০২২ সালের মে মাসে উত্তর কাশ্মীরের গুরেজ সেক্টর দিয়ে ভারতে ঢুকেছিল তারা। তিন নিহত জঙ্গিদের কাছে যে অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে, তা পহেলগাঁও হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল।  সোমবার সরকারি সূত্রে এমনটাই জানা গিয়েছে। এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘এইসব প্রামাণ্য নথি আমাদের হাতে এসেছে। এখন তাদের পাক নাগরিকত্ব নিয়ে সংশয়ের কোনও অবকাশই নেই।’

Advertisement

এনকাউন্টারে নিহত তিন জঙ্গির নাম সুলেমান শাহ ওরফে ফৈজল ভাট, আবু হামজা ওরফে আফগান এবং ইয়াসির ওরফে জিবরান। জানা গিয়েছে, সুলেমান ছিল লস্করের এ প্লাস প্লাস ক্যাটিগরির জঙ্গি। পহেলগাঁও হামলার মূলচক্রী  ও আততায়ী ছিল সে।  অন্যদিকে, হামজা ও ইয়াসির ছিল লস্করের ‘এ’ গ্রেড কমান্ডার। পহেলগাঁও হামলায় হ্যান্ডলারের কাজ করেছিল লাহোরের চাঙ্গা মাঙ্গার বাসিন্দা সাজিদ সৈফুল্লা জাট। সরকারি সূত্রে খবর, সুলেমান ও হামজার থেকে দু’টি ল্যামিনেট করা পাকিস্তানি ভোটার আইডি মিলেছে। ভোটার পরিচয়পত্রে যে সিরিয়াল নম্বর পাওয়া গিয়েছে, তার মধ্যে একটি লাহোরের (এনএ-১২৫), অন্যটি গুজরানওয়ালার (এনএ-৭৯)। সুলেমানদের স্যাটেলাইট ফোন থেকে মেমরি কার্ড মিলেছে। মেমরি কার্ডে রয়েছে পাকিস্তানের এনএডিআরএ’র (ন্যাশনাল ডেটাবেস অ্যান্ড রেজিস্ট্রেশন অথরিটি) তথ্য। তা থেকেই তিন জঙ্গির বায়োমেট্রিক সংক্রান্ত তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। অর্থাৎ আঙুলের ছাপ, মুখাবয়ব ও পরিবার বিষয়ক তথ্য। এসব থেকেই প্রমাণ মিলেছে, ওই তিনজনই পাক নাগরিক। মেমরি কার্ড থেকে দু’টি পাকিস্তানি ঠিকানাও মিলেছে। প্রথমটি কাসুর জেলার চাঙ্গা মাঙ্গার এবং দ্বিতীয়টি পাক অধিকৃত কাশ্মীরের কোইয়ান গ্রামের। নিহতদের ব্যাগ থেকে ‘ক্যান্ডিল্যান্ড’ ও ‘চকোম্যাক্স’ নামে দু’টি চকোলেটের ব্র্যান্ডের মোড়ক উদ্ধার করা হয়েছে। দু’টি ব্র্যান্ডই করাচির।  জানা গিয়েছে, গত ২১ এপ্রিল বৈসরণ থেকে দু’কিমি দূরে একটি অস্থায়ী কুটিরে আশ্রয় নিয়েছিল জঙ্গিরা। তাদের থাকার ব্যবস্থা করেছিল পারভেজ ও বশির আহমেদ জোঠর নামে দুই স্থানীয় কাশ্মীরি। পরের দিন বৈসরণে গিয়ে ২৬ জনকে হত্যা করে সুলেমান ও তার সঙ্গীরা। তারপরেই দাচিগামে পালিয়ে যায় তারা। সুলেমানের ঘড়ির জিপিএস তথ্য থেকে এই তথ্য জানা গিয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ