


নয়াদিল্লি: গত কয়েকদিন ধরেই সরকার বিরোধী উত্তাল পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর। বিক্ষোভ সামাল দিতে না পেরে নির্বিচারে গুলি চালাচ্ছে পাক সেনা, পুলিশ ও পাক রেঞ্জার্স। গুলিতে এখনও পর্যন্ত ১২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা দু’শোরও বেশি। এবার পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলল ভারতও। সেখানকার বাসিন্দাদের এই ক্ষোভের জন্য ইসলামাবাদের দমন-পীড়ন নীতিকেই দায়ী করেছে নয়াদিল্লি।
শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পাক নিরাপত্তা বাহিনীর নৃশংস অত্যাচারের কড়া নিন্দা করে বিবৃতি দিয়েছেন। রণধীরের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছে ইসলামাবাদ। ওই এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ নির্বিচারে লুট করা হয়েছে। তারই প্রতিবাদ করছেন সাধারণ মানুষ। মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য ইসলামাবাদকে জবাবদিহি করতে হবে। পাকিস্তান যে কাশ্মীরের ওই অংশ জোর করে দখল করেছে—এই ঘটনায় তা একবার ফের প্রমাণিত হল বলেও মন্তব্য করেছেন রণধীর। পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আন্তর্জাতিক মহলকে হস্তক্ষেপের জন্যও আর্জি জানিয়েছে ভারত। অপারেশন সিন্দুরের পর কেন্দ্র স্পষ্ট জানিয়েছিল, পাকিস্তান যদি তাদের অধিকৃত কাশ্মীর ফিরিয়ে দেয়, তবেই আলোচনার টেবিলে বসবে দিল্লি।
দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছেন পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের বাসিন্দারা। সেখানকার স্থানীয় প্রশাসন ৩৮টি দাবি না মানায় গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাস্তায় নামে জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি। বিক্ষোভ বড়ো আকার ধারণ করতেই, তা ঠেকাতে গুলি চালাতে শুরু করে পাক নিরাপত্তা বাহিনী।
এদিকে, চরম নিপীড়নের জন্য পাকিস্তান সরকার ও সেনাকে ‘ডাইনি আখ্যা দিয়েছেন আওয়ামি অ্যাকশন কমিটির শীর্ষ নেতা শওকত নওয়াজ মির। তিনি জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ অধিকার ও বিচার চাইছেন। তাঁদের লড়াই কোনও ব্যক্তিবিশেষের বিরুদ্ধে নয়, বর্তমান ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। মিরের দাবি, তথাকথিত ‘আজাদ কাশ্মীর’ মোটেও স্বাধীন নয়। বরং দশকের পর দশক ধরে এই এলাকা শোষণ ও দমনের শিকার হয়ে এসেছে।