


প্রীতেশ বসু, কলকাতা: শুধু বেড়াতে গিয়ে হোটেলে থাকার জন্যই নয়, স্বামী বা স্ত্রীর বিদেশের ভিসা পাওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারি কাজে প্রয়োজন পড়ে বিয়ের রেজিস্ট্রির শংসাপত্র। এবার থেকে সেই ম্যারেজ সার্টিফিকেট সংরক্ষিত রাখা যাবে ‘ডিজিলকারে’। ফলে বিয়ের প্রমাণপত্র হিসেবে কাগজের নথি জমা দেওয়ার দিন শেষ হতে চলেছে।যে কোনও সময় যে কোনও জায়গায় ‘ডিজিলকারে’ রাখা এই শংসাপত্র ডাউনলোড করে ব্যবহার করা যাবে। সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ‘ডিজিলকারে’ থাকা সার্টিফিকেটের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নাতীত। কারণ, সেগুলি সংরক্ষিত হয় সরাসরি সরকারি ডেটাবেস থেকে। ফলে তাতে বিকৃত বা ভুয়ো তথ্য থাকার কোনও সুযোগ নেই। ফলে সরকারি সহ যে কোনও কাজে এটি অগ্রাধিকার পাবে।
এতদিন আধার, ড্রাইভিং লাইসেন্স, প্যান কার্ড সহ বিভিন্ন সরকারি শংসাপত্র সংরক্ষিত রাখা যেত ‘ডিজিলকারে’। এবার রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে বিয়ের রেজিস্ট্রি সার্টিফিকেটও। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি থেকেই এই পরিষেবা চালু হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে মোবাইলে ‘ডিজিলকার’ অ্যাপে রেজিস্টার করে বিয়ের শংসাপত্রের নম্বর দিলেই তা সংরক্ষিত করে রাখা যাবে।
এখন প্রশ্ন হল, এমনিতেই তো মাত্র ২০০ টাকা দিলেই রাজ্যের ম্যারেজ রেজিস্ট্রারের ওয়েবসাইট থেকে সার্টিফিকেট ডাউনলোড করে ফেলা যায়। তাহলে ‘ডিজিলকার’-এ এই নথি সংরক্ষিত রাখার প্রয়োজন কোথায়? প্রশাসনিক কর্তারা জানাচ্ছেন, ফটোশপের সাহায্যে খুব সহজেই ডাউনলোড করা শংসাপত্রে তথ্য বদল করে দেওয়া যায়। ফলে সেটির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। সেই কারণে শংসাপত্রটি ফের যাচাইয়ের দরকার পড়ে। কিন্তু ‘ডিজিলকার’ থেকে সরাসারি শংসাপত্র দাখিল করলে নকল সমস্যা সম্পূর্ণ ভাবে এড়ানো সম্ভব। অর্থাৎ, ‘ডিজিলকার’ থেকে ডাউনলোড করা শংসাপত্র সারা ভারতে যে কোনও সংস্থা কোনও সংকোচ ছাড়াই নিতে বাধ্য।
জানা গিয়েছে, রাজ্যের তথ্যভাণ্ডারে বর্তমানে মোট ৪৬ লক্ষ ম্যারেজ সার্টিফিকেট রয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের পরে হওয়া ১৮ লক্ষ রেজিস্ট্রির শংসাপত্র ‘ডিজিলকারে’ তোলা যাবে। তার আগের ম্যারেজ রেজিস্ট্রির সার্টিফিকেটে থাকা ক্রমিক নম্বর এই পরিষেবার জন্য সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। সেগুলিকে ‘ডিজিলকারে’র উপযোগী করে তুলতে কিছুদিন সময় লাগবে। তাই সংশ্লিষ্ট দম্পতিরা এই সুবিধা পাবেন কয়েক মাস পর থেকে।