


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: চলতি বছরেই পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা ভোট হতে চলেছে। আর রাজ্যে রাজ্যে এহেন নির্বাচনি আবহে এবার ‘মানবিক’ হল কেন্দ্রের মোদি সরকার। দেশের লক্ষ লক্ষ ‘গিগ’ (অনলাইন পণ্য সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত) কর্মীদের স্বস্তি দিয়ে শ্রমমন্ত্রক জানাল, ১০ মিনিটে ডেলিভারির ‘টার্গেট’ আর বেঁধে দেওয়া যাবে না। এর ফলে ডেলিভারি কর্মীদের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। কেন্দ্রের নির্দেশিকা পাওয়ামাত্রই ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ই-কমার্স সংস্থা ‘ব্লিঙ্কইট’। সূত্রের খবর, একই পথে হাঁটছে অন্য সংস্থাগুলিও।
গত ২৫ এবং ৩১ ডিসেম্বর নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষার দাবিতে দেশব্যাপী ধর্মঘটে শামিল হয়েছিলেন ‘গিগ’ এবং ‘প্ল্যাটফর্ম’ কর্মীরা। ফলে দেশজুড়ে পণ্য সরবরাহ পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়ে। বছরের শেষ লগ্নে রীতিমতো ভোগান্তির শিকার হতে হয় সাধারণ মানুষকে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, লাগাতার ধর্মঘটের জেরেই এহেন পদক্ষেপ করতে একপ্রকার বাধ্য হয়েছে মোদি সরকার। ‘গিগ’ কর্মীদের বিপুল ভোটব্যাংকের কথাও মাথায় রাখতে হয়েছে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার ‘ব্লিঙ্কইট’-এর সঙ্গে ডেলিভারি কর্মীদের এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্য। এরপরেই নির্দেশিকা পাঠানো হয় সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স সংস্থা কর্তৃপক্ষকে। তাতে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে, ১০ মিনিটে ডেলিভারির কোনওরকম লক্ষ্যমাত্রা চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
কেন্দ্রের নির্দেশিকা পাওয়ার পরই ‘১০ মিনিটে ১০ হাজারেরও বেশি পণ্য ডেলিভারি’ ক্যাচলাইন পালটে দেয় ‘ব্লিঙ্কইট’। তাদের নতুন ক্যাচলাইন, ‘আপনার দোরগোড়ায় ৩০ হাজারেরও বেশি পণ্য সরবরাহ’। শ্রমমন্ত্রক সূত্রের খবর, অন্যান্য ই-কমার্স সংস্থার উদ্দেশেও একই নির্দেশিকা জারির পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে সারা দেশেই ‘টেন মিনিটস ডেলিভারি’র ব্যবস্থা শীঘ্রই বন্ধ হতে চলেছে। ‘গিগ’ কর্মীদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, ১০ মিনিটে ডেলিভারি করতে গিয়ে অনেক সময়ই তাঁরা দুর্ঘটনার শিকার হন। আবার ১০ মিনিটের মধ্যে পণ্য সরবরাহ না হলে গ্রাহকদের অনেকেই খারাপ রেটিং দিয়ে দেন। আর্থিকভাবে তারও মাশুল দিতে হয় ডেলিভারি কর্মীদেরই। এবিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব হয়েছেন আপ সাংসদ রাঘব চাড্ডা। সম্প্রতি তিনি ‘গিগ’ কর্মীর বেশে বিভিন্ন জায়গায় পণ্য সরবরাহও করেছেন। এদিন কেন্দ্রের পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন চাড্ডা। শ্রমিক সংগঠনগুলিও সাধুবাদ জানিয়েছে। সিটু অনুমোদিত পশ্চিমবঙ্গ গিগ শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সাগ্নিক সেনগুপ্ত বলেন, ‘এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এই বাহানায় কোম্পানিগুলো যেন পেআউট কমিয়ে না দেয়। শুধু ১০ মিনিটের ডেলিভারি বন্ধ করলেই হবে না, গিগ শ্রমিকদের জন্য আলাদা আইনের দাবি জানাচ্ছি। গিগ কর্মীদের জন্য বিমা, গ্যারান্টেড পেআউট সহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধাও চালু করতে হবে।’ কেন্দ্রের অবশ্য দাবি, আগামী অর্থবর্ষ থেকে কার্যকর হতে চলা চারটি শ্রম কোডের মাধ্যমে গিগ কর্মীদের বিমা, ন্যূনতম বেতন, সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।