


সংবাদদাতা, বজবজ: কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশন প্রকল্পের অঙ্গ হিসেবে বাড়ি বাড়ি থেকে জঞ্জাল সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছে। গ্রামবাসীদের মধ্যেও উৎসাহ রয়েছে। কিন্ত এই কাজ ধারাবাহিকভাবে চালানোর জন্য যতটা তহবিল দরকার, তাতে ঘাটতি থাকায় বজবজ ১ ব্লকের নিশ্চিন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েত উদ্বিগ্ন। শুধু তাই নয়, পরিকল্পনা ছিল গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৯টি সংসদ এলাকা ধরে এক সঙ্গে জঞ্জাল সংগ্রহের কাজ শুরু হবে। কিন্ত অর্থের ঘাটতিতে তাও থমকে গিয়েছে। আপাতত প্রথম ধাপে শুধু নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ৬টি সংসদ এলাকার ১৮০০টি পরিবারের জঞ্জাল সংগ্রহ চলছে। তবে প্রতিদিন নয়, এক একটি সংসদ এলাকায় একদিন অন্তর এই কাজ চলছে।
এই পঞ্চায়েতের আরও একটি সমস্যাও সামনে এসেছে। এই প্রকল্পে একশো শতাংশ জঞ্জাল সংগ্রহের মাত্রায় পৌঁছতে পারেনি তারা। সংগ্রহ করা সামান্য জঞ্জাল দিয়ে কিছুই তৈরি করা যাচ্ছে না। ফলে সংগৃহীত অল্প জঞ্জাল দিয়ে দিতে হচ্ছে বিষ্ণুপুর ১ ব্লককে। কঠিন ও তরল বর্জ্য নিষ্কাশন প্রকল্প চালাতে গিয়ে অর্থের জন্য হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। এই কথা কার্যত স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান কৃষ্ণেন্দু রায় এবং বাবলু হালদার। তাঁদের কথায়, এই প্রকল্পে এখন কাজ করছেন ১১ জন। এঁদের মধ্যে তিনজন বাড়ি বাড়ি জঞ্জাল সংগ্রহের গাড়ির চালক, চারজন মহিলা জঞ্জাল বাছাই করেন। এছাড়াও জঞ্জাল ঠিক মতো সংগ্রহ হচ্ছে কি না, তার উপর নজরদারি করছেন চারজন। এই ১১ জনের বেতন এখনও ঠিক করা যায়নি। কারণ কত টাকা এই কাজের জন্য পাওয়া যেতে পারে, তা নিশ্চিত নয়। ফলে সকলকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিছু একটা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে টাকা এলে, তখন বেতন নির্দিষ্ট করা হবে।
প্রধান বলেন, এর মধ্যে গাড়ির চালকরা মাঝেমধ্যেই গরহাজির থাকায় সমস্যা হচ্ছে। আসলে বেতন ঠিক না হওয়ায় এমনটা করছেন তাঁরা। আগে পঞ্চায়েতের নিজস্ব তহবিল থেকে এই কর্মীদের বেতনের টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্ত সেখানে কিছু সমস্যা হচ্ছে। তবে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের বরাদ্দ থেকে এই প্রকল্পে টাকা পাওয়ার সুযোগ আছে। ২৫ এবং ২৬ সালের সেই অর্থ হাতে এলে এই সমস্যা অনেকটা কেটে যাবে। এই সমস্যা সমাধানের জন্য ২৮ জুন সাধারণ সভা ডাকা হয়েছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে।