


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শিশু হাতাতেও কেপমারি! বিস্ময়কর এই ঘটনা ঘটেছে মঙ্গলবার হুগলির শ্রীরামপুরের ওয়ালস হাসপাতালে। শেষপর্যন্ত শিশুটিকে পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে কেপমার মহিলাকেও। এই ঘটনাকে ঘিরে প্রসূতি মহলে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়িয়েছে। চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শ্রীরামপুর শহরেও। এদিন দুপুরে হাসপাতাল থেকে সদ্যোজাত কন্যাসন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার তোড়জোড় করছিলেন কোন্নগরের বাসিন্দা নেহা কুড়মি। সেই সময় তাঁর সঙ্গে খাতির জমায় এক মধ্যবয়সি মহিলা। ওই মহিলা শিশুটিকে নিয়ে আদর করতে শুরু করে। তার জেরেই ওই প্রসূতি খানিক অন্যমনস্ক হয়ে পড়েন। সেই সুযোগে সদ্যোজাত শিশুকন্যাকে নিয়ে কেপমার মহিলা চম্পট দেয়। পরে শ্রীরামপুরের নওগাঁর মোড় হয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে হুগলিতে একাধিক কেপমারির ঘটনা ঘটেছে। উত্তরপাড়া থেকে চণ্ডীতলা— সোনার দোকান থেকে শুরু করে পথচারীদের সঙ্গেও কেপমারি হয়েছে। কিন্তু সদ্যোজাতকে হাতাতে কেপমারির ঘটনা আগে ঘটেনি। ফলে, বিস্মিত হয়েছেন শ্রীরামপুর তথা চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ কর্তারা। যদিও শ্রীরামপুরের ডিসিপি অর্ণব বিশ্বাস বলেন, শিশু চুরিতে অভিযুক্ত মহিলাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার পরিচয় সহ যাবতীয় তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। এর পিছনে কোনও গ্যাং আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিন ট্রাফিক পুলিশের তৎপরতাতেই দ্রুত সাফল্য মিলেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীরামপুরের ট্রাফিক ওসি এবং তাঁর টিমকে এদিন ব্যক্তিগতভাবে পুলিশ কমিশনার (চন্দননগর) পুরস্কৃত করেছেন। এদিকে, সন্তানকে হারিয়ে নেহাদেবী অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। শিশুটিকে উদ্ধারের পর সে এখন চিকিৎসাধীন রয়েছে। নেহাদেবীর ননদ দীপা মণ্ডল বলেন, ঘটনার কথা ভাবলে এখনও আতঙ্ক হচ্ছে। পুলিশ আমাদের সন্তানকে ফিরিয়ে দিয়েছে, একারণে তাঁদের অনেক ধন্যবাদ।
গত বৃহস্পতিবার কোন্নগরের ঘোষালপাড়ার নেহাদেবী ওয়ালস হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হন এবং কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। এদিন তাঁকে ছুটি দিয়ে দেওয়া হয়। তিনি সদ্যোজাতকে নিয়ে হাসপাতালের মূলভবনের বাইরে বসেছিলেন। তাঁর পরিবার গাড়ির ব্যবস্থা করতে ছুটোছুটি করছিল। সেই সময় কেপমার মহিলা তাঁর সঙ্গে ভাব জমায়। তারপর আদরের ছলে শিশুটিকে নিজের কাছে নিয়ে নেয়। আচমকা প্রসূতি দেখতে পান তাঁর সন্তান সহ কেপমার মহিলা উধাও হয়ে যায়। তারপরেই শোরগোল পড়ে যায়। দ্রুত পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। শ্রীরামপুরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাস্তায় পুলিশ নাকা চেকিং শুরু করে। নওগাঁর মোড়ে পুলিশ টোটোতে চেপে যাওয়ার সময় এক সন্দেহভাজন মহিলাকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার ছবির সঙ্গে মিলিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং শিশুটিকে উদ্ধার করে। পরে শিশুর পরিবার তাকে শনাক্ত করেছে। কেপমারের কবল থেকে শিশুকে উদ্ধার, ঘণ্টা তিনেকের ঘটনাবহুল পর্ব শ্রীরামপুরের নাগরিক মহলকে স্তম্ভিত করেছে।