


অনির্বাণ রক্ষিত: শুরু হয়ে গেছে বইপ্রেমীদের সব থেকে বড় উৎসব— আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। বিগত কয়েক বছরের মতো এ বছরও সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে আয়োজিত হয়েছে ৪৯তম বইমেলা। এবারের ফোকাল থিম কান্ট্রি আর্জেন্তিনা। যেখানে প্রায় ২০টিরও বেশি দেশ অংশগ্রহণ করছে। প্রচুর নতুন বই প্রকাশ পেয়েছে এবারের বই মেলায়।
বইপ্রেমীদের পছন্দের বই দে’জ পাবলিশিং থেকে সাড়া বছরই প্রকাশ পায়। তবে বইমেলায় আকর্ষণীয় বইয়ের সংখ্যা বেশি। ঐতিহাসিক কাহিনির মধ্যে রয়েছে হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের উপন্যাস ‘জাফরাগঞ্জ: বাংলার শূন্য সিংহাসনের পাঁচ রাত’, সমৃদ্ধ দত্তের ‘ঐতিহাসিক হত্যা রহস্য’, কাবেরী রায়চৌধুরীর প্রাপ্তবয়স্কদের উপন্যাস ‘ষড়রিপু’, থ্রিলারের মধ্যে অর্পিতা সরকারের ‘রক্তপলাশের বনে’, ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়ের ‘কালো পাথরে যুদ্ধ’, দীপান্বিতা রায়ের থ্রিলার ‘চোরকাঁটা’, অভিমন্যু রায়ের থ্রিলার ‘লুডো’, অমৃতা কোনার নন্দীর ‘অরণ্যের আদিম আতঙ্ক’। পুরাণ ধর্মী রাজা ভট্টাচার্যের ‘আয়ানের শ্রীরাধিকা’ ও স্বাগতা দাশগুপ্তের ‘বিরহী কৃষ্ণ’ পাঠকরা বেশ পছন্দ করছেন। প্রয়াত সমরেশ মজুমদারের ‘গীতবিতান ছুঁয়ে বলছি’, অমর মিত্রের ‘উপন্যাস সমগ্র (২)’, অভিনেতা অঞ্জন দত্তের স্মৃতিচারণ ‘বাহাত্তুরে অঞ্জন’, লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘সন্ধে রাতের তারা’, জয়ন্ত দে-র ‘কর্নেল জুজুকে কোনও প্রশ্ন নয়’, ময়ূরী মিত্রের ‘চাক বাদাম’, স্বপ্নময় চক্রবর্তীর ‘রেডিয়োওয়ালা’, কিন্নর রায়ের ‘লালতারা’, নন্দিনী নাগের ‘এবার কাণ্ড কেনিয়ায়’, ঝড়েশ্বর চট্টোপাধ্যায়ের ‘কালো পাথরের বুদ্ধ’, মন্দার মুখোপাধ্যায়ের ‘আলোর রং সবুজ’ পাঠকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স থেকে তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা তারানাথের নতুন কাহিনি ‘তারানাথের ব্রহ্মাস্ত্র’, দেবাশিস পাঠকের ‘জগন্নাথ রহস্য’, গজেন্দ্রকুমার মিত্রের ‘অলৌকিক সমগ্র ৩’, স্বপ্নময় চক্রবর্তীর ‘পঞ্চাশটি গল্প’, শেখর মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘অনাগত মিত্র’ পাঠক সমাজে আলোচিত।
এবছর দীপ প্রকাশন থেকে পাঠকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের দু’টি বই। হারিয়ে যাওয়া খুনি সিরিজের নতুন বই ‘ভাগ হয়নিকো ভাগীরথী’ ও বিপ্লবী উল্লাসকর দত্তকে নিয়ে লেখা ‘উল্লাসকর’। এছাড়াও নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ীর ‘দুর্গার সংসার’, অভিরূপ সরকারের রহস্য উপন্যাস ‘কলঙ্করেখা’, সৌভিক চক্রবর্তীর ‘নীরেন ভাদুড়ি সমগ্র’, সাথী দাসের উপন্যাস ‘উল্টোনদীর বাঁক’, সায়ক আমানের ‘ঘুমাতেছে কয়েকটি পরিচিত লোক’, সৌরভ গুহর ‘আলো আঁধারির গোপাল পাঁঠা’, শিউলি ভট্টাচার্যের থ্রিলার ‘রক্তাক্ত হরতন’, অমৃতা কোনার নন্দীর ‘ভারতের মহিলা গুপ্তচর (২)’, জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়ের ‘আইনের দরবারে’, সোমব্রত সরকারের ‘নাগা সাধনা ও নারী নাগাদের কথা’, ধীরেন্দ্রলাল ধরের ‘ঐতিহাসিক রচনাবলি’, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের ‘রানুকাকিমার লখনও অভিযান’, গৌতম ভট্টাচার্যের ‘তাহাদের শেষ তর্পণ’ ইত্যাদি আরও কিছু বই পাঠকরা সংগ্রহ করছেন।
লালমাটি থেকে তারাপদ রায় রচনাসমগ্র সপ্তম খণ্ড, সাথী দাসের উপন্যাস ‘প্রেমের শেষ অধ্যায়’, দেবদাস কুণ্ডুর গল্প সংকলন ‘উজানস্রোত’, চিরঞ্জয় চক্রবর্তীর ‘ভারতীয় ভাষায় শিশুতোষ রামায়ণ’, অজয় নাগের কবিতা সংকলন ‘সাইরেন সাইরেন’, চকিতা চট্টোপাধ্যায়ের বই ‘তারাপীঠ ভৈরবসাধক বামাখ্যাপা’র পুণর্মুদ্রণ সহ অন্যান্য বই পাঠকদের পছন্দের তালিকায় থাকছে।
আধ্যাত্মিক গ্রন্থ প্রকাশনার পীঠস্থান গিরিজা লাইব্রেরির প্রকাশ হওয়া গ্রন্থগুলির মধ্যে নিতাই নাগের ‘বিংশ শতাব্দীর দশ সিদ্ধ সাধক’, অজয়কুমার ভাণ্ডারীর ‘রাধাতন্ত্রম’, স্বামী বেদানন্দের ‘পাতঞ্জল যোগসূত্র’ ও ‘উপনিষদ গ্রন্থাবলি (১)’, ‘শ্রীচৈতন্য মহাজীবন’: সম্পাদনা চৈতন্যময় নন্দ, সোমব্রত সরকারের ‘অদৃশ্য আনন্দমঠ ও রহস্যময় সাধক-সাধিকারা’ ও ‘তান্ত্রিকদের চিকিৎসা পদ্ধতি’, গৌতম বিশ্বাসের দু’টি বই ‘পঞ্চকেদারের পথে পথে’ ও ‘পঞ্চকৈলাস পরিক্রমা’, ডঃ অখিল মজুমদারের ‘বৈষ্ণব মহাজীবন’, ডঃ দেবপ্রসন্ন বিশ্বাসের ‘প্রসঙ্গ: মনুসংহিতা’, তপন মুখার্জির ‘শ্রীরামকৃষ্ণ ভাবসাগরে’ পাঠকদের পছন্দের তালিকায় থাকছে।
বসাক বুক স্টোর এ বছর ৬৫ পূর্ণ হয়েছে। তাই তারা প্রকাশ করেছে বহু আকর্ষণীয় বই। সোমব্রত সরকারের ‘প্রেতসংহিতা’, সুপ্রিয় লাহিড়ীর চিকিৎসা বিজ্ঞানের বারোটি আবিষ্কারের কাহিনি নিয়ে ‘বারোটি তারার আলো’, অনিরুদ্ধ সরকারের ‘রহস্য সন্ধানী রুদ্রেশ ২’, বৈশাখী ঠাকুরের দু’টি বই, ‘গোয়েন্দা পুবালী অহনা সমগ্র ১’ এবং ভৌতিক গল্প সংকলন ‘আউট হাউস’, দীপককুমার পালের ‘রহস্যে ঘেরা জ্ঞানগঞ্জ’, মহুয়া মল্লিকের ঐতিহাসিক উপন্যাস ‘দুই রানী দুই দ্রোহিনী’, ১৯৭১ এর যুদ্ধবন্দি ভারতীয় সৈনিকদের নিয়ে দেবশ্রী চক্রবর্তীর লেখা ‘৫৪-এর গন্ডির বাইরে’, ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়ের কাশ্মীরের পটভূমিকায় লেখা উপন্যাস ‘আরো একবার উপত্যকা’, মহুয়া ঘোষের ‘মহাশ্মশানে চণ্ডাল’ ১ ও ২ খণ্ড, অভীক দত্তের ‘গল্পসমগ্র ৩’, পর্বতারোহী দেবাশীষ বিশ্বাসের ‘এভারেস্ট ও লোৎসে’, ঋতুপর্ণা রুদ্রের উপন্যাস ‘অচেনা স্রোতে একা’, নয়ন বসুর গল্প সংকলন ‘শালাহারাম’ পাঠক।
কমলিনীর অনুবাদ সাহিত্যের উল্লেখযোগ্য বইগুলি হল প্রেমেন্দ্র মিত্রের অনুবাদ সমগ্র, সুমন গোস্বামী অনূদিত এদুয়ার্দো গ্যালেয়ানার ‘আরশিয়ানা’, ননী ভৌমিক অনূদিত ‘রুশগল্প সংকলন’, নীলাঞ্জন চট্টোপাধ্যায় অনূদিত ‘মপাসাঁর গল্প সংগ্রহ’, এইচ জি ওয়েলসের ‘দু’টি উপন্যাস’— ভাষান্তর স্বপন চট্টোপাধ্যায়। এছাড়াও অক্ষয়কুমার মৈত্রের ‘মীরজাফর ও মীরকাশিম’, বারিদবরণ ঘোষ সম্পাদিত ৩ খণ্ডে ‘বিপ্লবীদের ডায়েরি’, সঙ্গীতজ্ঞ কবীর সুমনের ‘মনমেজাজ’, সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ‘অন্তর্লীন রক্তক্ষরণ’ ইত্যাদি আরও বেশ কিছু বই পাঠকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে।
অক্ষর সংলাপ প্রকাশন থেকে এবার প্রকাশিত সন্দীপ দাসের থ্রিলার ‘দাবাড়ু’, শতরূপা নাগ পালের ‘সাত রং এর ভয়’, সোমজা দাসের ‘ভাঙনভোর’, অনির্বাণ চৌধুরীর উপন্যাস ‘যাও মেঘ’ বইগুলি পাঠকদের পছন্দের তালিকায় থাকছে।
শিশু সাহিত্য সংসদের নতুন বইয়ের মধ্যে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘বাংলা রচনাসংগ্রহ ব্রজেন্দ্রনাথ শীল’, অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কলকাতার বৈঠকি গান থেকে সঙ্গীত সম্মেলন’, গৌতম গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘কোয়ান্টাম বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানীরা’, অত্রি মুখোপাধ্যায়ের ‘প্রবন্ধ সংগ্রহ’ পাঠকমহলে সমাদৃত হয়েছে।
প্রিটোনিয়া পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স-এর ডঃ তরুণ মুখোপাধ্যায়ের ‘যুগন্ধর রাজা রামমোহন রায়’, ‘বন্দে মাতরম: বিভবে বৈভবে’, ‘স্বামী বিবেকানন্দ খাপখোলা তরোয়াল’, চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আমি কে?’, তন্ময় কুম্ভকারের ‘বাংলার লোকগান’, ডঃ হিরন্ময় মুখোপাধ্যায়ের ‘সত্যজিৎ রায়ের সিনেমায় রবীন্দ্র সাহিত্য’, নাজিমুল হকের ‘নাজিমুলের গান’ বইগুলি পাঠকদের পছন্দের তালিকায় থাকছে।
করুণা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত সমৃদ্ধ দত্তের ‘মিস্ট্রি ফাইল’, দেবর্ষি সারগীর ‘মানবজনম’, ‘বর্তমান শারদীয়া’য় প্রকাশ হওয়া হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্তের ‘কালোদিঘির রাবণ রাজা’, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভিন্ন ধারার গল্প’, বরেন গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘বনবিবির উপাখ্যান’, সোমব্রত সরকারের ‘মূলাধারে সহস্রারে’, ডাঃ প্রাণেশ মণ্ডলের ‘সুস্বাস্থ্য ও রিহ্যাব’ বইগুলি পছন্দের তালিকায় থাকছে।
অভিযান পাবলিশার্স-এর নতুন বইয়ের মধ্যে চৈতন্য দাসের গল্প সংকলন ‘ল্যাম্পপোস্ট’, মৌসুমী পাত্রের ‘বাঘুর বাহাদুরি’, পবিত্র গায়েনের ‘সহজপাঠ ও সনেটগুচ্ছ’, মারুফ হোসেন সম্পাদিত ‘থ্রিলার অভিযান ৪’ বইগুলি পছন্দের তালিকায় থাকছে।
ওরিয়েন্ট বুক কোম্পানি থেকে প্রকাশিত প্রবীর রায় ও ডঃ পার্থ সেনগুপ্ত সম্পাদিত ‘মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর: আত্মচরিত’, প্রবীর রায়ের ‘আদিম মানুষ ও সাম্প্রদায়িকতা’, অবনীভূষণ কাঞ্জিলালের ‘অজেয় পৌরুষ বিদ্যাসাগর’ বইগুলি পাঠকদের পছন্দের তালিকায় থাকছে।
পারুল থেকে প্রকাশ হয়েছে অনেক আকর্ষণীয় গ্রন্থ। তার মধ্যে পহেলগাঁও হত্যাকাণ্ড নিয়ে চিত্রদীপ চক্রবর্তী ও প্রীতমপ্রতীক বসুর লেখা ‘পহেলগাঁও’, রতনতনু ঘাটীর ‘পাতাপুকুরের রূপকথা’, অভীক দত্তের থ্রিলার ‘আয়নাবাড়ি’, গৌতম বাগচির ‘আমি গোপাল পাঁঠাকে দেখেছি’, আর ডি ও এস ডি বর্মণকে নিয়ে লেখা পান্নালাল রায়ের ‘গানের রাজা, সুরের রাজপুত্র’, ডাঃ প্রকাশ মল্লিক ও ডাঃ পার্থসারথি মল্লিকের লেখা ‘চর্মরোগের হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা’, যদুনাথ সরকার বিরচিত ‘শিবাজী’, সমরেশ বসুর ‘গোয়েন্দা অশোক ঠাকুর ফিরে এলেন’, বারিদবরণ ঘোষের ‘গাঁইয়ার আপনকথা’, কুমুদিনী মিত্রের ‘জাহাঙ্গীরের আত্মজীবনী’, অমৃতা কোনারের ‘ইন্দ্রজিৎ সিরিজ: তোমার ভয়ের সুযোগ নিয়ে’, কৌশিক দাসের ‘অপারেশন ড্রাগন হান্ট’ বইগুলি পাঠকদের পছন্দের তালিকায় থাকছে।
কচি পাতা থেকে প্রকাশিত অসিত দাসের ‘সিন্ধুলিপিত সন্ধানে’, দেবশ্রী চক্রবর্তীর লেখা ‘১৯৮৪ সর্দার গদ্দার হে’, গোলাম রসুলের ‘কবিতা সমগ্র ৩’, দীপশেখর চক্রবর্তীর ‘আজীবন নির্বাসনে আছি’, পবিত্র চক্রবর্তীর ‘শিশু-কিশোর রচনা সংগ্রহ ১’, সুতপা মুখার্জির ‘আটপৌরে আখ্যান’ বইগুলি পাঠকদের পছন্দের তালিকায় থাকছে।