নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: স্কুলের পাঠ্যবইয়েও জালিয়াতি! তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এক্ষেত্রে সরাসরি ‘কানেকশন’ রয়েছে দু’টি বিজেপি শাসিত রাজ্যের। উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানা। বিগত ১৪ মাসে বিভিন্ন অভিযান চালিয়ে তাদের পাঁচ লক্ষেরও বেশি পাইরেটেড পাঠ্যবই আটক করেছে এনসিইআরটি। তবে শুধুই জাল পাঠ্যবই নয়। পুলিস-প্রশাসনের সহযোগিতায় ওইসব অভিযানে একইসঙ্গে আটক করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ প্রিন্টিং পেপার এবং পাঠ্যবই জালিয়াতির বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। সবমিলিয়ে যার মূল্য ২০ কোটি টাকারও বেশি। শিক্ষামন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে না জেনে এনসিইআরটির ওইসব পাইরেটেড পাঠ্যবই যারা ব্যবহার করছে, সেইসব পড়ুয়ার স্বাস্থ্য নিয়েও। কারণ শিক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, যে প্রিন্টিং পেপারে বইগুলো ছাপা হয়েছে, সেগুলি অত্যন্ত নিম্নমানের। পাশাপাশি বই ছাপানোর জন্য যে কালি ব্যবহার হয়েছে, তার গুণমানও অত্যন্ত খারাপ। ফলে পড়ুয়াদের শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা থেকে যায়। পাশাপাশি সরকার এবং এনসিইআরটির কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতির বিষয়টিও জড়িয়ে আছে।
কিন্তু এর সঙ্গে কীভাবে দু’টি ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্যের নাম উঠে আসছে? জানা যাচ্ছে, বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে প্রথমে পশ্চিম উত্তরপ্রদেশের মুজফফরনগরে একটি ওয়্যারহাউসে অভিযান চালান এনসিইআরটি এবং প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। সেখান থেকেই প্রায় দু’কোটি টাকা মূল্যের দেড় কোটিরও বেশি পাইরেটেড পাঠ্যবই উদ্ধার হয়। পাশাপাশি জাল পাঠ্যবই ভর্তি একটি ট্রাক, দু’টো গাড়ি এবং একাধিক প্রিন্টিং প্লেট আটক করা হয়। ঘটনাস্থল থেকেই আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। শিক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, এই গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের জেরা করে বেশ কিছু তথ্য মেলে। তার উপর ভিত্তি করে হরিয়ানার সমলখায়ে একটি প্রিন্টিং প্রেসে হানা দেওয়া হয়। সেখান থেকেও একাধিক প্রিন্টিং প্লেট, বই জাল করার যন্ত্রপাতি এবং অসংখ্য পাইরেটেড পাঠ্যবই আটক করা হয়।
এরই পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের কাশীপুর এলাকায় একটি পেপার মিলের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে, যারা অবৈধভাবে এনসিইআরটির ওয়াটারমার্কড পেপার তৈরি করেছে। ওই সংস্থার বিরুদ্ধেও ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, চক্রের মাস্টারমাইন্ড কে, তার খোঁজে এখনও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। শিক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই আইআইটি কানপুর অ্যান্টি-পাইরেসি প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছে যা ১০ লক্ষ এনসিইআরটি পাঠ্যবই ছাপাতে ব্যবহৃত হয়েছে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সবক’টি বইয়েই এর ব্যবহার হবে।