Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

আইনসভায় দ্রুত মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে চায় নরেন্দ্র মোদি সরকার, নির্বাচনের আগে নারীশক্তিকে বার্তা দেওয়ার প্রয়াস

২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা নয়। লোকসভা-বিধানসভায় দ্রুত মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে মরিয়া মোদি। তাই আগামী শনি-রবিবার সংসদের অধিবেশন বসিয়ে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করতে চায় সরকার।

আইনসভায় দ্রুত মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে চায় নরেন্দ্র মোদি সরকার, নির্বাচনের আগে নারীশক্তিকে বার্তা দেওয়ার প্রয়াস
  • ২৪ মার্চ, ২০২৬ ১৬:০৩
Prefer us on Google

সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা নয়। লোকসভা-বিধানসভায় দ্রুত মহিলা সংরক্ষণ আইন কার্যকর করতে মরিয়া মোদি। তাই আগামী শনি-রবিবার সংসদের অধিবেশন বসিয়ে মহিলা সংরক্ষণ সংক্রান্ত আইন সংশোধন করতে চায় সরকার। নতুন সেন্সাস বা ডিলিমিটেশন (এলাকা পুনর্বিন্যাস)-এর জন্য অপেক্ষা না করে ২০১১ সালের সেন্সাস তথ্যকে ভিত্তি করেই কার্যকর করা হবে মহিলা সংরক্ষণ আইন। তাই আনা হচ্ছে সংবিধান সংশোধনী বিল। যার ফলে পরবর্তী লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে হবে ৮১৬। যার মধ্যে ৩৩ শতাংশ সদস্য মহিলা। লোকসভা এবং রাজ্যগুলির বিধানসভায় আসন বাড়বে ৫০ শতাংশ। জুন মাসে গঠন হবে ডিলিমিটেশন কমিশন। 

Advertisement

সংবিধান সংশোধন বিল পাশ হলেও পশ্চিমবঙ্গ সহ আসন্ন পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে তা কার্যকর হবে না ঠিকই। তবে জনমানসে বিজেপি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করবে যে, তারা মহিলাদের অধিকার প্রদানে কত উদ্যোগী। একইসঙ্গে আগামী বছর আইন কার্যকর করে উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, গোয়া, গুজরাত, পাঞ্জাব বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়বে। সেটাই কি বিজেপির লক্ষ্য? প্রশ্ন রাজনৈতিক মহলে। তা নাহলে লোকসভা তো সেই উনত্রিশেই। 
২০১১ সালের সেন্সাসকে ভিত্তি করলে এলাকা পুনর্বিন্যাসের বিচারে কোথাও আপাতত বিধানসভা আসনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। ফলে ডিএমকের মতো দক্ষিণের বিজেপি বিরোধী দল আগে যেভাবে ডিলিমিটেশনের নতুন তথ্যে আপত্তি করছিল, তা করবে না বলেই সরকারের বিশ্বাস। তাই দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে সংবিধান সংশোধনী বিল সর্বসম্মত পাশ করাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সব দলের সঙ্গে ঘরোয়াভাবে আলোচনা শুরু করেছেন। সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু সব দলের প্রতিনিধিকে ডেকে ডেকে বৈঠকে বসাচ্ছেন। সেই মতো সোমবার বিজেডি, এনসিপি (এসপি), শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী), ওয়াইএসআরসিপির কয়েকজনের পাশাপাশি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মতো সাংসদ সরকারের সঙ্গে কথা বলেছেন। কংগ্রেস, ডিএমকে, তৃণমূলের মতো কোনো দল এভাবে অমিত শাহর সঙ্গে ঘরোয়া আলোচনায় বসতে নারাজ। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে দাবি করেছেন, সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হোক। তবেই এই বিল পাশ হবে। কিন্তু সরকার বিষয়টিকে মহিলাদের অংশদারী, ক্ষমতায়ন  সংক্রান্ত— দেখিয়ে বিরোধী দলগুলিকে পালটা চাপে ফেলতে চাইছে। ২০১১ সালের সেন্সাসকে ভিত্তি করে লোকসভা-঩বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো এবং এক-তৃতীয়াংশ মহিলা প্রতিনিধিত্বের জন্য দুটি বিল সংশোধন করতে হবে। ডিলিমিটেশন কমিশন আইন। এবং নারীশক্তি বন্দন অধিনিয়ম। দুটির জন্যই সংবিধান সংশোধন বিল আনা হবে। বিরোধীদের সরকার বোঝাচ্ছে, নতুন সেন্সাস আর ডিলিমিটেশন অনেক সময়সাপেক্ষ। সরকার দ্রুত লোকসভা এবং বিধানসভায় মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে চায়। যদিও একে পাঁচ রাজ্যের ভোটের আগে স্রেফ রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরির ‘ফাঁদ’ বলে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল। তাই অমিত শাহর সঙ্গে আলোচনায় তারা বসবে না। তবে সংসদে বিল এলে অংশ নেবে বলেই জানা গিয়েছে। তা নাহলে নেতিবাচক বার্তা যেতে পারে। 

সম্পর্কিত সংবাদ