


সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: আজ দোল পূর্ণিমা। রঙে মেতে উঠবে আট থেকে আশি। এই দোলের দিনই নারায়ণের অনন্তশয্যার পুজো হয় আমতার সোমেশ্বর গ্রামে। দৈনন্দিন জীবনের বাইরে বেরিয়ে একটু অন্যরকম অনুভূতি পেতে পুজোকে ঘিরে এখন উৎসবের আমেজ ওই গ্রামে।
সোমেশ্বরের এই পুজো এবার ৫৭ বছরে পদার্পণ করল। জানা গিয়েছে, ১৩৫৪ বঙ্গাব্দে সোমেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা হরিশচন্দ্র বর পুরীতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সেখানে জগন্নাথ মন্দিরে নারায়ণের অনন্তশয্যার মূর্তি দেখে নিজের গ্রামে সেই পুজো শুরু করবেন বলে তিনি ঠিক করেন। তাই ওই অনন্তশয্যার মূর্তির ছবি নিয়ে এসে গ্রামের তারাপদ মণ্ডল, অষ্টম মাজি, বৈদ্যনাথ কোলে, মদনমোহন বসু, মোহন বর সহ অন্য বাসিন্দাদের দেখান। এরপর সকলের সম্মতিতে ১৩৫৫ বঙ্গাব্দে দোল পূর্ণিমার দিন এই পুজো শুরু হয়। মাঝে কয়েকটি কারণে পুজো বন্ধ ছিল। তবে ১৯৭৬ সাল থেকে একটানা এই পুজো হচ্ছে। শুরুতে এই পুজো ১০ দিন ধরে হলেও বর্তমানে ছ’দিন হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা অসীমকুমার মিত্র বলেন, নারায়ণের ওই অনন্তশয্যার মূর্তি তৈরির জন্য মাঘী পূণিমার দিন মাটি তোলা হয় দামোদর থেকে। আগে গ্রামের ভিতরে ব্রহ্মতলার কাছে একটি জায়গায় এই পুজো হতো। সাতের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে দামোদর নদীর বাঁধের পাকা রাস্তার পাশের একটি মাঠে এই পুজো হয়ে আসছে। জায়গাটি বর্তমানে অনন্তশয্যাতলা বলে পরিচিত। সোমেশ্বর আধুনিক সংঘের সদস্য এবং গ্রামবাসীরা মিলে এই পুজো করে আসছেন।
ক্লাবের তরফে সোমনাথ কোলে, দেবব্রত কোলে, সুবীর কোলেরা বলেন, দোল পূর্ণিমার দিন সকালে প্রভাত ফেরির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়। পুজো উপলক্ষে ছ’দিন ধরে যাত্রাপালা, গান, যোগব্যায়াম, আতশবাজি প্রদর্শনী, তরজা সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়। নরনারায়ণ সেবা এবং অন্নকূট এই পুজোর অন্যতম আকর্ষণ। উৎসবের শেষ দিনে শোভাযাত্রা করে নারায়ণকে বিভিন্ন গ্রাম প্রদক্ষিণ করিয়ে দামোদর নদীতে বির্সজন দেওয়া হয়। নিজস্ব চিত্র