Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

মুঘল ইতিহাস বাদ, কেন্দ্রের সিলেবাসে কুম্ভ-বেটি বাঁচাও

মোদি জমানায় শিক্ষাক্ষেত্রে গৈরিকীকরণের অভিযোগ নতুন নয়! গত দু’-তিন বছর ধরেই সেই চেষ্টা চলছে। এর আগে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাসে বদল এনেছে কেন্দ্র।

মুঘল ইতিহাস বাদ, কেন্দ্রের সিলেবাসে কুম্ভ-বেটি বাঁচাও
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মোদি জমানায় শিক্ষাক্ষেত্রে গৈরিকীকরণের অভিযোগ নতুন নয়! গত দু’-তিন বছর ধরেই সেই চেষ্টা চলছে। এর আগে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির সিলেবাসে বদল এনেছে কেন্দ্র। বাদ গিয়েছে মুঘল যুগের অধ্যায় থেকে গান্ধীহত্যা, ডারউইনের বিবর্তনবাদ, গোধরা পরবর্তী হিংসা, বাবরি মসজিদ সহ অনেক কিছু। মোদি সরকার তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার এক বছরের মধ্যে ফের উঠল একই অভিযোগ। এবার সপ্তম শ্রেণির কেন্দ্রীয় সিলেবাসের পাঠ্যবই থেকে থেকে বাদ পড়ল মুঘল ইতিহাস, দিল্লির সুলতানি শাসন ব্যবস্থার যাবতীয় ‘রেফারেন্স’। পরিবর্তে সেখানে ঠাঁই পেল কুম্ভমেলা, ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, এমনকী অটল টানেলের প্রসঙ্গও। এমনই সিদ্ধান্ত ন্যাশনাল কাউন্সিল অব এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা এনসিইআরটি’র। তাদের অনুমোদিত সপ্তম শ্রেণির সোশ্যাল সায়েন্স পাঠ্যবই ‘এক্সপ্লোরিং সোসাইটি - ইন্ডিয়া অ্যান্ড বিয়ন্ড’কে ঘিরেই দানা বেঁধেছে বিতর্ক। বইটিতে অনেক বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের হিন্দু শাসন ব্যবস্থার উপর। যেমন মগধ কিংবা মৌর্য সাম্রাজ্য। এরপরই ফের কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনায় সরব হয়েছে শিক্ষাবিদরা। প্রশ্ন উঠছে, গেরুয়া শিবির কি সচেতনভাবেই মুঘল কিংবা সুলতানি শাসনকে এড়িয়ে দিতে চাইছে? এভাবে দেশের ইতিহাসের একটি পর্বকেই সিলেবাস থেকে বাদ দিয়ে দিলে স্কুল পড়ুয়াদের শিক্ষা কি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে না?

Advertisement

এই বিষয়ে অবশ্য একপ্রকার সাফাই দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা রাষ্ট্রমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, ‘পাঠ্যসূচি থেকে কোনও কিছুই বাদ যায়নি। শুধুমাত্র রিপিটেশন বন্ধ করা হয়েছে মাত্র।’ তীব্র বিতর্কের মুখে ব্যাখ্যা দিয়েছে এনসিইআরটি’ও। তাদের দাবি, ‘এটি সংশোধিত সিলেবাসের প্রথম অংশ মাত্র। দ্বিতীয় অংশ আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই প্রকাশিত হবে।’ অর্থাৎ, শিক্ষামন্ত্রক সূত্রেই ইঙ্গিত, বিতর্ক এড়াতে দ্বিতীয় অংশে বাদ পড়ে যাওয়া ‘ইতিহাস’ পুনরায় জুড়ে দেওয়া হতে পারে। যদিও এর জন্য আরও কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু ইতিহাসের জরুরি পাঠ বাদ দিয়ে প্রয়াগরাজের কুম্ভমেলা কিংবা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচি ‘বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও’ সিলেবাসে যুক্ত হয় কী করে? সেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে ওয়াকিবহাল মহল। 
সরকারি সূত্রের খবর, প্রয়াগরাজের ‘মহাকুম্ভ’ মেলাকে এনসিইআরটির পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত। তবে এবার যে পদপিষ্টের ঘটনা ঘটেছিল, তার কোনও উল্লেখ করা হয়নি। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল যে, সংশোধিত সিলেবাসে ভারতের মাটি কীভাবে ‘পবিত্র’ হল, তার বিশদ বর্ণনা করা হয়েছে। ফলে প্রত্যাশিত কারণেই ‘হাউ দ্য ল্যান্ড বিকামস স্যাক্রেড’ শীর্ষক চ্যাপ্টারকে নিয়েও বিতর্কের আঁচ এড়াতে পারছে না মোদি সরকার। ইংরেজি পাঠ্যবইকেও এবার অনেক বেশি ‘ভারতীয়’ করে তোলা হয়েছে। সেখানে স্থান পেয়েছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এপিজে আবদুল কালামের লেখা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ