Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

স্বপ্নাদেশে মাতৃ-বন্দনা

স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন বরানগরের ব্যবসায়ী রামচন্দ্র শেঠ। তারপর আর দেরি করেননি। ছোট্ট একফালি দরমা-চালা ঘরে ঘটে-পটে শুরু করেছিলেন দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা।

স্বপ্নাদেশে মাতৃ-বন্দনা
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন বরানগরের ব্যবসায়ী রামচন্দ্র শেঠ। তারপর আর দেরি করেননি। ছোট্ট একফালি দরমা-চালা ঘরে ঘটে-পটে শুরু করেছিলেন দেবী অন্নপূর্ণার আরাধনা। বহু বছর আগে মৃত্যু হয়েছে রামচন্দ্রবাবুর। কিন্তু একবারের জন্যও বন্ধ হয়নি এই পুজো। এবার শেঠ বাড়ির দেবীর আরাধনা পা দিল ৬৬ বছরে। প্রথম কয়েক বছর দেবীর পট পুজো হতো। তারপর শুরু হয় প্রতিমায় মাতৃ আরাধনা। পুজো হতো চালাঘরে। এখন অবশ্য সেই চালাঘর আর নেই। সেই জায়গায় গড়ে উঠেছে পাকা দালান। তবে চার ফুটের প্রতিমার কোনও পরিবর্তন হয়নি। এক আছে দেবীর বেদীও। আগে এই পরিবারের প্রতিমা আসত ন’পাড়া লাগোয়া পটুয়াপাড়া থেকে। এখন সেই প্রতিমা তৈরির ভার বসাক বাগানের এক মৃৎশিল্পীর কাঁধে। নিয়ম-নিষ্ঠা সহকারে বৈষ্ণব রীতিতে পুজো হয় শেঠ বাড়িতে। এই পুজোয় অবশ্য দেবীকে অন্নভোগ দেওয়া হয় না। ফল, লুচি, সুজি, আলুর দম, পাঁচ রকম ভাজা, নানা পদের তরকারি সহ নানা ধরনের মিষ্টান্ন দেবীর কাছে নিবেদন করা হয়। সঙ্গে থাকে পানের খিলি। সেই পান পাতায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় সুগন্ধী গোলাপ জল। সন্ধ্যারতির সময় নানা পদের ভোগ নৈবেদ্য হিসেবে দেওয়া হয়। আগে পুজোর দিন সন্ধ্যায় এলাকার বিশিষ্টদের আগমন হতো শেঠ বাড়িতে। কালের নিয়মে সেই জমজমাটে কিঞ্চিৎ ভাটা পড়েছে। কিন্তু উদ্যোগ-আয়োজনে কোনও খামতি নেই। প্রথা মেনে আজও প্রতিমা নিরঞ্জন হয় বরানগর কাচের মন্দির সংলগ্ন ‘এক মন্দির ঘাটে’।

Advertisement

মহারাজা নন্দকুমার রোডের এই শেঠ বাড়ির একতলায় বহু বছর আগে তোলা দেবী অন্নপূর্ণার একটি ছবি রাখা হয়েছে। প্রতিদিন সেখানে ধূপ ও গঙ্গাজল দেওয়া হয়। জ্বালানো হয় মঙ্গলদীপ। শেঠ পরিবারের প্রবীণা সদস্যা ৯০ বছরের নীহারিকা শেঠের বিশ্বাস, পুজোর সময় বাড়ির দালানে সূক্ষ্ম শরীরে আবির্ভূত হন স্বয়ং মা অন্নপূর্ণা। নীহারিকাদেবীর ছেলে সোমনাথ শেঠ বলেন, নানা সমস্যা রয়েছে। কিন্তু ঐতিহ্য ও পরম্পরা মেনে আমাদের পরিবারের সবাই এই পুজোয় অংশগ্রহণ করেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ