


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এতদিন সঙ্ঘ পরিবারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, হিন্দি ভাষার আগ্রাসনের। আঞ্চলিক ভাষার তুলনায় হিন্দিকে সর্বত্র বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষাভাষী রাজ্যগুলিতে ক্ষোভ বাড়ছিল। এবার যুক্ত হল সংস্কৃত ভাষা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবকসঙ্ঘের সরসংঘচালক মোহন ভাগবত মহারাষ্ট্রে কবি কুলগুরু কালিদাস সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘সংস্কৃতকে কথোপকথনের ও যোগাযোগের ভাষায় পর্যবসিত করা প্রয়োজন। ভাগবত বলেন, সংস্কৃত বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের থেকে সহায়তা পাবে। সরকার নানাবিধ প্রয়াস করবে এই ভাষার প্রসারে। কিন্তু সেটা যথেষ্ট নয়। সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে। সংস্কৃত ভাষা বুঝতে পারা এবং সেই ভাষায় কথোপকথন দুটি সম্পূর্ণ পৃথক। আমি নিজেই সংস্কৃত জানি ও বুঝতে পারি। কিন্তু সেই তুলনায় মুখের ভাষা হিসেবে সংস্কৃতে তেমন সড়গড় নই। এই প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। যাতে সকলে আরও বেশি করে সংস্কৃত ভাষায় কথা বলতে পারে, প্রাত্যহিক আলাপচারিতায় যাতে সংস্কৃত ব্যবহৃত হতে পারে, সেদিকে এবার উদ্যোগী হওয়া দরকার।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একটি অনুষ্ঠানে ইংরাজি ভাষার বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছিলেন, স্বদেশি ভাষার গুরুত্ব, মাহাত্ম্য এবং মর্যাদা সর্বদাই শ্রেষ্ঠ। আমরা সেই প্রয়াসই চালাচ্ছি। একদিন এমন সময় আসবে যখন ইংরাজিতে কথা বলতে দেশবাসী লজ্জা পাবে। অনেক বেশি মর্যাদা পাবে স্বদেশি ভাষা। বস্তুত সেই বিতর্কের জের কাটার আগেই ভাগবত এবার প্রস্তাব দিলেন, সংস্কৃত হোক মুখের ভাষা। যদিও মোহন ভাগবত সম্প্রতি হিন্দি ভাষাকে চাপিয়ে দেওয়া বিতর্কেও মুখ খুলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সব ভাষারই সম্মান ও মর্যাদা সমান। কোনও একটি ভাষাকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়া আমরা সমর্থন করি না।