Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

চাপের মুখে ইএলআই স্কিমের অনুমোদন দিল মোদি মন্ত্রিসভা

মঙ্গলবার ‘এমপ্লয়মেন্ট লিঙ্কড ইনসেনটিভ’ (ইএলআই) স্কিমের অনুমোদন দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা।

চাপের মুখে ইএলআই স্কিমের অনুমোদন দিল মোদি মন্ত্রিসভা
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার ‘এমপ্লয়মেন্ট লিঙ্কড ইনসেনটিভ’ (ইএলআই) স্কিমের অনুমোদন দিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের সাধারণ বাজেটে এই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচির ঘোষণা করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। সম্প্রতি এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন ইস্যুতে মোদি সরকারকে তীব্র তোপ দেগেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও। অবশেষে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংগঠনের (ইপিএফও) অধীনে এই কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে দু’বছরে প্রায় সাড়ে তিন কোটি কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। এক্ষেত্রে অনুমোদিত বরাদ্দের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে ৯৯ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। 

Advertisement

ইএলআই স্কিমের মাধ্যমে মাসে সর্বোচ্চ এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত বেতনপ্রাপ্ত প্রথমবারের কর্মীরা উৎসাহ ভাতা পাবেন। বেসরকারি সংস্থা-প্রতিষ্ঠানের ওইসব কর্মীকে অবশ্যই ইপিএফ গ্রাহক হতে হবে। অর্থাৎ, তাঁরা যে সংস্থায় কর্মরত থাকবেন, সেগুলিকে ইপিএফওর আওতাভুক্ত হতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথমবারের কর্মীদের এক মাসের বেতন দু’টো কিস্তিতে উৎসাহ ভাতা হিসেবে প্রদান করবে কেন্দ্র। তবে এই উৎসাহ ভাতার পরিমাণ কোনওমতেই ১৫ হাজার টাকার বেশি হবে না। অন্যদিকে, কর্মী নিয়োগের ‘পুরস্কার’স্বরূপ সংশ্লিষ্ট নিয়োগ কর্তারাও কর্মসংস্থানভিত্তিক উৎসাহ ভাতা পাবেন। দু’বছরের জন্য এর পরিমাণ হবে মাসে সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা করে। তবে উৎপাদন ক্ষেত্রের জন্য চার বছর ধরে প্রতি মাসে এই ইনসেনটিভ পাবেন নিয়োগ কর্তারা। কেন্দ্র জানিয়েছে যে, ২০২৫ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এই কেন্দ্রীয় কর্মসূচি প্রযোজ্য হবে। এর ফলে প্রথমবারের কর্মী হিসেবে প্রায় ১ কোটি ৯২ লক্ষ যুবক-যুবতী উপকৃত হবেন বলেই জানিয়েছে কেন্দ্র। 
যদিও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হলেও ইএলআই স্কিম নিয়ে একাধিক ধোঁয়াশা রয়েছে। যেমন, প্রথমবারের কর্মীদের মাসে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা দু’টো কিস্তিতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথম কিস্তির টাকা পাওয়া যাবে কাজ শুরুর ছ’মাস পরে। দ্বিতীয়টি ১২ মাস পরে। কিন্তু এই দু’টো কিস্তির টাকা কি সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে? যাঁরা ‘ফার্স্ট টাইম এমপ্লয়িজ’, মাসে তাঁদের প্রত্যেকের বেতন কাঠামো স্বাভাবিকভাবেই এক হবে না। সেক্ষেত্রে কারা কত টাকা ইনসেনটিভ পাবেন, তা কীসের ভিত্তিতে স্থির হবে? সুনির্দিষ্টভাবে এর উত্তর মঙ্গলবার শ্রমমন্ত্রকও দিতে পারেনি। মন্ত্রকের আধিকারিকরা শুধু জানিয়েছেন, স্কিমের দিশানির্দেশিকা তৈরি হচ্ছে। তা চূড়ান্ত হওয়ার পর যাবতীয় সংশয় কেটে যাবে। যদিও প্রথমবারের কর্মী হলেই যে প্রত্যেক ইপিএফ গ্রাহক ইনসেনটিভ পাবেন, তা নয়। এক্ষেত্রে রয়েছে শর্ত। ওই কর্মীদের একটি ফিনান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রামে শামিল হতে হবে। যে উৎসাহ ভাতা তাঁরা পাবেন, তার একটি অংশও গচ্ছিত থাকবে সরকারের কাছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার পর তা তুলতে পারবেন কর্মীরা। অন্যদিকে, ইপিএফওর আওতাভুক্ত যেসব সংস্থায় ৫০ জনের কম কর্মচারী আছেন, তাদের অন্তত দু’জন অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করতে হবে স্কিমের পরিষেবা পাওয়ার জন্য। ৫০ জন কিংবা তার বেশি কর্মী থাকলে, অন্তত পাঁচজন নতুন কর্মচারী নিয়োগ করতে হবে। অন্তত ছ’মাস তাঁদের কাজ সুনিশ্চিত করতে হবে। এমনই জানিয়েছে কেন্দ্র।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ