Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রামপুরহাট শহরের যানজট দূর করতে উদ্যোগী বিধায়ক

রামপুরহাট শহরের যানজট দূর করতে উদ্যোগী বিধায়ক
  • ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাট শহরের যানজট মেটাতে প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে বহুবার। কিন্তু ফলপ্রসু হয়নি। উল্টে যানজট তীব্রতর হয়েছে। পথে বেরিয়ে চরম নাজেহাল হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। পরিস্থিতি কাটিয়ে তোলার দাবি নিয়ে বুধবার বিকেলে সিউড়িতে এসে জেলা পুলিস সুপারের সঙ্গে দেখা করলেন রামপুরহাট বিধায়ক তথা জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। রামপুরহাট শহরে নাগরিক স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে নানা অভিযোগের তালিকায় যানজট সমস্যা শীর্ষে। ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক থেকে শহরের ভিতরের রাস্তা, নিত্যদিন সর্বত্র যানজটে চরম ভোগান্তি সাধারণ মানুষের। জাতীয় সড়কের উপর সরকারি ও বেসরকারি বাসস্ট্যান্ড। বেশিরভাগ সময় যাত্রী তোলা কিংবা নামানোর কাজ হচ্ছে মূল সড়কে। সব থেকে দুর্বিষহ অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে মেডিক্যা঩লের সামনের সড়কে। সেখানে যানজটের ফাঁসে অ্যাম্বুলেন্সকে পর্যন্ত দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। ভাঁড়শালা থেকে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত চারশো মিটার সড়ক পার হতে ঘণ্টাখানেক সময় লেগে যাচ্ছে। তার উপরে দু’পাশে নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রেখে ব্যবসায়ীদের একাংশ ব্যবসা করছেন। ফলে ফুটপাথ দিয়ে চলার পরিস্থিতি নেই। তার উপরে মাত্রাতিরিক্ত টোটোর উৎপাত। রাস্তার ধারে অটো, টোটো, চারচাকা গাড়ি পার্ক করা হচ্ছে। দাঁড় করিয়ে রাখা হয় বড় গাড়িও। 

Advertisement

অন্যদিকে শহরের ভিতরের রাস্তাগুলিতেও একই ছবি। ফুটপাত বলে কিছু নেই। কয়েক হাজার টোটো ও মোটর ভ্যানের দৌরাত্ম্য লেগেই থাকে। প্রখর রোদে দীর্ঘ যানজটে আটকে চরম নাকাল হচ্ছেন মানুষজন। বহুবার শহরে যানজট সমস্যা নিয়ে একাধিক প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে। নতুন বছর থেকেই জোড় বিজোড় নীতিতে টোটো চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়। সেইমতো টোটোর রেজিস্ট্রেশন থেকে পৃথক রং করা হয়। ওয়ান ওয়ে চালু করা হয়। কিন্তু কিছুদিন পরই ফিরে আসে পূর্বাবস্থা। বর্তমানে সেই নির্দেশিকার কোনও বালাই নেই। শহরের বাসিন্দারা বলেন, পুরো ট্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুরসভা বা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কোনও হেলদোল চোখে পড়ছে না। টোটোর ধাক্কায় প্রায়ই পথচারীরা জখম হচ্ছেন। দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে। 
যানজট সমস্যা থেকে শহরবাসীর মুক্তির দাবি নিয়ে এদিন এসপির সঙ্গে দেখা করেন আশিসবাবু। তিনি বলেন, এসিকে বলেছি মেডিক্যাল যেতে ৪০০ মিটার পথ পেরতে একঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। রোগী ও আত্মীয়রা চরম অসুবিধের মধ্যে পড়ছেন। রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে যখন তখন মালপত্র ওঠানামা করা হচ্ছে। ওয়ান ওয়ে নেই। পড়ুয়ারা স্কুল, কলেজ যাওয়ার সময় ট্রাফিক জ্যামে আটকে পড়ছে। সাধারণ মানুষ হাঁটতে পারছে না। দোকানদাররা তাঁদের মালপত্র রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছেন। এই নিয়ে দু’-তিনবার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেছি। কিন্তু ফল মেলেনি। তাই পুলিস সুপারের কাছে আসা। এসপি আমনদীপ বলেন, খুব শীঘ্রই পরিদর্শন করে সমস্যার সমাধান করা হবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ