


নয়াদিল্লি: ২৪ ঘণ্টা আগেই সেনার বিশেষ অভিযানে খতম হয়েছে পহেলগাঁও হামলার তিন জঙ্গি। মঙ্গলবার সংসদে সন্ত্রাসবাদীদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর এই খবরেই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পহেলগাঁও হামলায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।
সোমবার মহাদেব পর্বতের নীচে জঙ্গলঘেরা এলাকায় অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। মাত্র কয়েকঘণ্টার মধ্যে নিকেশ হয় তিন জঙ্গি। জানা যায়, এরাই পহেলগাঁও হামলার মূল চক্রান্তকারী। অভিযানের নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন মহাদেব’। বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতে দেশজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। তবে ওই জঙ্গিরাই যে পহেলগাঁও হামলার চক্রী, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সংসদে বিষয়টা নিয়ে সরব হয় বিরোধীরা। এরপর মঙ্গলবার প্রমাণ সহ তিন জঙ্গির পরিচয় নিশ্চিত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বলেন, আমাদের কাছে প্রমাণ আছে। দু’জনের পাকিস্তানি ভোটার কার্ড ছিল। এমনকী পাকিস্তানি চকোলেটও পাওয়া গিয়েছে। ওই তিন জঙ্গিই যে পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল তা বোঝাতে অমিত শাহ বলেন, দু’টি ক্ষেত্রেই বুলেটের খোল যে অভিন্ন, তা চণ্ডীগড়ের ফরেন্সিক ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় জানা গিয়েছে।
তা শোনার পর আবেগে ভাসছেন পহেলগাঁও সন্ত্রাসী হামলায় নিহত সন্তোষ জগদলের কন্যা আশাবরী। গত ২২ এপ্রিলের ঘটনা এখনও বিশ্বাস হয় না তাঁর। ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের মৃত্যু মানতেই পারেননি। ব্যাপারটা আরও অস্বস্তির ছিল কারণ অপরাধীরা ধরা পড়েনি। অবশেষে সেনার অভিযানে খতম হামলার তিন জঙ্গি। আশাবরী বলেন, ‘আজ ওই ২৬ জন শান্তি পেল। আমরা এবার শান্তিতে ঘুমোতে পারব।’ বিশেষ এই অভিযানের জন্য সেনাবাহিনী ও সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। আরও বলেছেন, ‘এই ধরনের অভিযান হওয়া উচিত, যাতে আর কেউ অপকর্ম করার আগে দুবার ভাবে।’
একইসুরে নিজেদের অনুভূতির কথা জানিয়েছেন, সঙ্গীতা কিংবা ঐশ্বর্যারা। দুজনেই পহেলগাঁও হামলায় স্বামীকে হারিয়েছেন। সেই শোক ভুলে স্বাভাবিক হওয়া মোটেও সহজ নয়। তার উপর পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। তবে অপারেশন মহাদেবের খবর শুনে দু’জনেই স্বস্তি পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়েছেন সঙ্গীতা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছে পহেলগাও হামলার নিহতদের পরিবার। এঁদের মধ্যে কেউ কেউ সেদিন ঘটনাস্থলেও ছিলেন। সকলেই যেন অপেক্ষায় ছিলেন কবে আসল অপরাধীরা ধরে পড়বে বা তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হবে! অবশেষে সেই আশা পূরণ হল।