নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আট দফার জায়গায় এবার পশ্চিমবঙ্গে দু’দফায় ভোট হবে বলে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। আর দু’দফায় ভোট সারতে এবার বাংলায় কমিশন সর্বোচ্চ সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়োগ করতে চলেছে। সূত্রের খবর, বাংলায় ২ হাজার কোম্পানি আধাসেনা নিয়োগ হতে চলেছে। অর্থাৎ, ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল ভোটে অন্তত ২ লক্ষ জওয়ানের বুটের আওয়াজে কাঁপতে চলেছে বাংলা! শুধু তাই নয়, অন্যান্য বারের তুলনায় দ্বিগুণ সংখ্যক অর্থাৎ ৩৫০ জন পর্যবেক্ষক নিয়োগ করতে চলেছেন জ্ঞানেশ কুমাররা।
রাজ্য সফরে এসে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা বলে গিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। ভোটে কোনোরকম অশান্তি কমিশন বরদাস্ত করবে না বলে রাজ্য প্রশাসনের কর্তাদের সাফ জানিয়ে গিয়েছেন তিনি। ভোট ঘোষণার পরই আদর্শ আচরণবিধি সংক্রান্ত এক গুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করেছে কমিশন। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল, ‘মডেল কোড অফ কনডাক্ট’ জারি থাকাকালীন পাঁচটি রাজ্যে কমিশন ফ্লাইং স্কোয়াড ও স্ট্যাটিক সারভেইল্যান্স টিম মোতায়েন করছে। পাঁচটি রাজ্যে ৫,৭১৩টিরও বেশি ফ্লাইং স্কোয়াড মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। এই স্কোয়াড অভিযোগ পাওয়ার ১০০ মিনিটের মধ্যে পদক্ষেপ করবে। সেই সঙ্গে সামগ্রিক পরিস্থিতির উপর নজর রাখতে মোট ৫,২০০টি স্ট্যাটিক সারভেইল্যান্স টিম মোতায়েন করছে কমিশন। এছাড়াও কমিশন জানিয়েছে সমস্ত সরকারি অফিস, দপ্তর থেকে বিজ্ঞাপন, নির্বাচনি হোর্ডিং, পোস্টার সরিয়ে ফেলতে হবে। কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্বাচনের কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করতে পারবেন না। সরকারি কোষাগারের টাকায় কোনোরকম নির্বাচনি বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না। এছাড়াও কমিশনের নির্দেশ, গৃহকর্তার অনুমতি ব্যতীত কোনো বাড়়ির সামনে সভা-সমাবেশ করা যাবে না। দেওয়াল লিখন বা দলীয় পতাকা লাগানোর ক্ষেত্রেও গৃহকর্তার অনুমতি নিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলিকে।
নির্বাচনি বিধিভঙ্গ সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্য একটি নম্বর (১৯৫০) দিয়েছে কমিশন। ফোন করে ডিইও বা আরও-দের কাছে অভিযোগ জানানো যাবে। আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে ‘ইসিআইনেট’-এ গিয়ে ‘সি-ভিজিল অ্যাপ’-এ অভিযোগ জানাতে পারবেন যে কেউ। এছাড়াও নির্দিষ্ট কোনো জায়গায় সভা করতে চাইলে রাজনৈতিক দলগুলিকে ‘ইসিআইনেট’-এ ‘সুবিধা’-য় আবেদন করতে হবে। যে দল আগে আবেদন করবে, তাদের সভা করার অনুমতি দেওয়া হবে।
এদিকে, মার্চ মাসে কোন কোন পুলিশ আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে, সেই তালিকা তলব করল কমিশন। কোনো পুলিশ আধিকারিকের অবসরের পর তাঁকে কোনো পদ দেওয়া হয়েছে কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসা, ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে অশান্তির সময় দায়িত্বে থাকা পুলিশ অফিসারদের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন। গত বিধানসভা নির্বাচন এবং লোকসভা নির্বাচনের সময় বুথের মধ্যে লাগানো বহু ওয়েবক্যাম কাজ করেনি। তাই এবার এগুলি সরবরাহের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বাইরের রাজ্যের তিন সংস্থাকে।