


নয়াদিল্লি: মাসুদ আজহার পাকিস্তানে নেই। জয়েশ-ই-মহম্মদ প্রধান বর্তমানে আফগানিস্তানে রয়েছেন। সম্প্রতি এক টিভি সাক্ষাৎকারে এই দাবি করেছিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী বিলাবল ভুট্টো জারদারি। একধাপ এগিয়ে বেনজির-পুত্রের বক্তব্য ছিল, ভারত তথ্য দিক। সুস্পষ্টভাবে জানাক মাসুদ আজহার পাকিস্তানের মাটিতে ঠিক কোথায় রয়েছেন। আমরা তাঁকে গ্রেপ্তার করে খুশি মনে ভারতের হাতে তুলে দেব। যদিও সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্টে পাকিস্তানি শীর্ষ নেতৃত্বের মিথ্যা বচন ফের প্রমাণিত। কারণ ভারতীয় গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, আফগানিস্তানে নয়, মোস্ট ওয়ান্টেড এই জঙ্গিনেতাকে দেখা গিয়েছে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের গিলগিট-বালটিস্তান অঞ্চলে। মাসুদ আজহারের ঘাঁটি বলে পরিচিত পাকিস্তানের বাহওয়ালপুর থেকে এই জায়গাটির দূরত্ব এক হাজার কিলোমিটারের বেশি।
সাম্প্রতিক গোয়েন্দা রিপোর্ট অনুযায়ী, গিলগিট-বালটিস্তান অঞ্চলের স্কারদুতে সাদপারা রোড এলাকায় রয়েছেন মাসুদ আজহার। এই জায়গাটিতে অন্তত দু’টি মসজিদ ও মাদ্রাসা রয়েছে। আর রয়েছে অনেকগুলি সরকারি ও বেসরকারি গেস্ট হাউস। অপরূপ হ্রদ ও মনোগ্রাহী নেচার পার্কের সুবাদে এলাকাটি পর্যটকদের কাছে খুবই আকর্ষণীয়। এরকমই একটি জায়গায় গোপনে একেবারে সাদামাটাভাবে রয়েছেন জয়েশ প্রধান।
জয়েশ প্রধানের এই নয়া আস্তানা সম্পর্কে গোয়েন্দা-তথ্যের মধ্যেই জানা গিয়েছে, রহিম ইয়ার খান এয়ারবেসে রানওয়ে বন্ধের সময়সীমা ফের বর্ধিত করেছে পাকিস্তান। এই নিয়ে তৃতীয়বার রানওয়ে বন্ধ রাখা নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। অপারেশন সিন্দুরের অন্তর্গত পাকিস্তানের এই এয়ারবেসকেও নিশানা বানিয়েছিল ভারত। সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল রানওয়ে। জারি হওয়া সর্বশেষ নোটাম (নোটিস টু এয়ারম্যান) অনুযায়ী, রহিম ইয়ার খান রানওয়েতে বিমান ওঠানামা বন্ধের মেয়াদ ৫ আগস্ট পর্যন্ত বর্ধিত করা হচ্ছে। রানওয়ে বন্ধ রাখা নিয়ে এই নয়া বিজ্ঞপ্তি থেকেই পরিষ্কার, সেই ক্ষতির বহর এতটাই বেশি ছিল যে পাকিস্তান এখনও তা মেরামত করে উঠতে পারেনি।