


সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: রাত্রিবেলা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে নদীর চরে জেসিবি নামিয়ে চলছে মাটি কাটা। কাটা চলছে জঙ্গলের ম্যানগ্রোভ। যেখানে এই অপরাধমূলক কাজ হচ্ছে সেখান থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বনদপ্তরের অফিস। ঘটনাটি ঘটছে পাথরপ্রতিমার দক্ষিণ শিবগঞ্জ এলাকায় ফরেস্ট অফিসের ফেরিঘাটের কাছে কার্জনক্রিক নদীর তীরে।
সেখানে নদীর তীরে বড়ো জঙ্গল। শনিবার রাতে ওই জঙ্গলে একটি জেসিবি নামায় দুষ্কৃতীরা। প্রথমে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির প্রচুর গাছ কেটে নেয়। তারপর নদীর চরের মাটি কেটে রাস্তার পাশে উঁচু করে জমাতে থাকে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ফেরিঘাট থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে বনদপ্তরের অফিস। তা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে চলছে এই অবৈধ কাজকর্ম। দীপককুমার দাস নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘রাতে কখন এই কাজ করা হয়েছে কেউ জানতে পারেনি। সকালবেলা ফেরিঘাটের কাছে গিয়ে দেখতে পাই ম্যানগ্রোভ জঙ্গলের বহু গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। নদীর চরের মাটিও কেটে নিয়েছে। বড়ো গর্ত তৈরি হয়ে গিয়েছে সেখানে।’ স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, এভাবে ম্যানগ্রোভ ধ্বংস করলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চল বাঁচানো সম্ভব নয়। প্রশাসনের অবিলম্বে তদন্ত করা উচিত। শুভ্রাংশুশেখর নায়েক নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘এরকম ভয়ানক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বনদপ্তরকে অভিযোগ করা হয়েছে।’ পাথরপ্রতিমার বিধায়ক সমীরকুমার জানা বলেন, ‘ম্যানগ্রোভ আছে বলে সুন্দরবনের অস্তিত্ব রয়েছে। তা কেটে ফেলার বিষয়টি আমরা কেউই সমর্থন করি না। এরকম অভিযোগ গুরুত্ব সহকারে দেখা হয়। দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ হয়। এখানে এমন কাজ হলে নিশ্চিত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।’ নিজস্ব চিত্র