Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভিষেককে পাশে নিয়ে ইস্তেহার প্রকাশ মমতার, ঈদের পর জোরকদমে প্রচার শুরু করবে তৃণমূল

আজ, শুক্রবার কালীঘাটে বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহার প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। ৬টি ভাষায় এই ইস্তেহার প্রকাশ করা হয়।

অভিষেককে পাশে নিয়ে ইস্তেহার প্রকাশ মমতার, ঈদের পর জোরকদমে প্রচার শুরু করবে তৃণমূল
  • ২০ মার্চ, ২০২৬ ১৮:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আজ, শুক্রবার কালীঘাটে বিধানসভা নির্বাচনের ইস্তাহার প্রকাশ করল তৃণমূল কংগ্রেস। ৬টি ভাষায় এই ইস্তেহার প্রকাশ করা হয়। উপস্থিত ছিলেন দলীয় সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। এই ইস্তাহারের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল ১০টি প্রতিজ্ঞা। মোটর উপর রাজ্যের মহিলা, যুবক, কৃষক, সাধারণ পরিবার-সহ প্রায় সকল স্তরের মানুষের জন্যই একাধিক আর্থিক এবং সামাজিক প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে। এদিন ইস্তেহার প্রকাশের সময়ই বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন মমতা। বলেন, বিভাজনের রাজনীতি করে বাংলা দখলের চক্রান্ত করছে বিজেপি। ওরা বাংলার মেধা-অস্মিতা চায় না। ভোটের আগে সীমান্ত দিয়ে বাংলায় অস্ত্র, টাকা ঢোকানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। এমনকী নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে বাংলার অফিসারদের ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। পরিচিত অফিসারদের সরিয়ে এমন কিছু পর্যবেক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে যাঁরা এই রাজ্যের ভাষা, সংস্কৃতি এবং ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে কিছুই জানেন না। বাংলা দখলের গভীর চক্রান্ত করছে মোদি সরকার। আর এই কাজে গেরুয়া শিবিরকে সাহায্য করছে নির্বাচন কমিশন। এদিন কমিশনকে বিজেপির তোতাপাখি বলেও কটাক্ষ করেন তিনি। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তৃণমূল নেত্রী বলেন, বর্তমানে রাজ্যে কী নির্বাচন কমিশনের আড়ালে অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন চলছে? এটা গণতন্ত্রের জন্য লজ্জাজনক বিষয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে অনেককে ভয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা কোনওমতেই মাথা নত করব না। প্রলোভনে পা না দিয়ে ঘাসফুল শিবিরের প্রার্থীদের জয়ী করুন। বাংলার স্বার্থে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে শুধুমাত্র তৃণমূলের পাশেই দাঁড়ান। অপরদিকে তিনি দাবি করেন, এনআরসি এবং জনগণনার নামে সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার এক সুগভীর পরিকল্পনা করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। ভোটের আগে দেশে রীতিমতো যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বেসরকারিকরণ নিয়েও তোপ দাগেন মমতা। 

Advertisement

উন্নয়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে নেত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে বাংলায় উন্নয়নের এক নতুন মডেল তৈরি হয়েছে। দেউচা পাঁচামি হয়ে গেলে আগামী ১০০ বছর বিদ্যুতের সমস্যা মিটে যাবে। রঘুনাথপুর, শালবনিতে বিনিয়োগের কথাও বলেন তিনি। ফলে আগামীদিনে রাজ্যে আরও কর্মসংস্থান হবে। ইতিমধ্যেই বাংলায় ৪০ শতাংশ বেকারত্ব কমেছে বলেও জানান তিনি। বর্তমানে এমএসএমই-তে বাংলা এক নম্বরে রয়েছে। পাশাপাশি মমতা বলেন, এবার রাজ্যে শুরু হবে দুয়ারে চিকিৎসা। কয়েক হাজার স্কুলের আধুনিকীকরণ হবে। দুয়ারে ক্যাম্প-স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প তো রয়েছেই। যে সকল প্রবীণদের সন্তানরা বাইরে চলে গিয়েছেন তাঁদের জন্য বিশেষ যত্নের অঙ্গীকার করেন তিনি। বলেন, মহিলারা সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবেন। এক কোটি যুবকদের ভাতা দেওয়া হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে যুবশ্রী, মেধাশ্রীও। বিধবা এবং বয়স্ক ভাতা কিছুটা বাকী রয়েছে। সমীক্ষা করা হচ্ছে। ঠিক সময়মতো ওটাও করে দেওয়া হবে। এছাড়া সমস্ত কাঁচা বাড়ি ধীরে ধীরে পাকা করে দেওয়া হবে। 

অন্যদিকে, প্রশাসনিক সুবিধায় রাজ্যে সাত থেকে দশটি নতুন জেলা করা হবে। গঠন করা হবে একাধিক পুরসভাও। শেষে এসআইআর প্রসঙ্গে মমতা বলেন, শুনেছি, ৬০ লক্ষের মধ্যে ২২ লক্ষের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কিন্তু তার মধ্যে ১০ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছে। এর বেশিরভাগটাই বাদ গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ, মালদহ, উত্তর দিনাজপুর জেলা থেকে। বিশেষ একটা সম্প্রদায়কে টার্গেট করা হচ্ছে। ঈদের পর থেকে জোরকদমে প্রচার শুরু করা হবে জানান তৃণমূল সুপ্রিমো।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ