


সংবাদদাতা, বনগাঁ: নিঃশর্ত নাগরিকত্বের দাবিতে ৫ নভেম্বর থেকে অনশনে বসেছেন মতুয়ারা। বুধবার অষ্টম দিনে পড়ল তাঁদের কর্মসূচি। এদিন অনশনে বসলেন অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের সংঘাধিপতি মমতা ঠাকুর। এর আগে তাঁকে অনশন মঞ্চে দেখা যায়নি। মমতা দাবি করেছিলেন, রাজ্যের বাইরে থাকায় তিনি প্রথম থেকে অনশন মঞ্চে যোগ দিতে পারেননি। এদিন তিনি বলেন, অনশনরত সাধু, গোঁসাই, দলপতিরা আমার সন্তানের মতো। আমিও তাঁদের সঙ্গে আমরণ অনশনে যোগ দিলাম। আজ বৃহস্পতিবার আসতে পারেন অধীর চৌধুরী।
ইতিমধ্যে অনশন মঞ্চে একাধিক বাম নেতা ঘুরে গিয়ে গিয়েছেন। অনশন মঞ্চে এসে মতুয়াদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক জল্পনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে মতুয়া মন পেতে মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে বাম কংগ্রেস। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সিপিএম সম্পাদক পলাশ দাস বলেন, ‘বামপন্থীরা সবসময় ন্যায়ের পক্ষে লড়াই করেছে। মতুয়ারা ন্যায়ের দাবিতে আন্দোলন করছেন। সেই আন্দোলনকে সমর্থন করতেই তাঁদের পাশে থাকা।’ তবে অনশন মঞ্চে দেখা যায়নি তৃণমূল প্রতিনিধিদের। যা মতুয়াদের অন্দরে ক্ষোভের সঞ্চার করেছে। মঙ্গলবার অনশনের সপ্তম দিনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এক মতুয়া সদস্যকে বলতে শোনা যায় মতুয়াদের সমর্থন ও ঠাকুর বাড়ির মাটি স্পর্শ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এলেও তাঁর দলের একজনও অনশন মঞ্চে এসে মতুয়াদের দাবিকে সমর্থন করেনি। এবিষয়ে জেলার এক তৃণমূল নেতা বলেন, মতুয়াদের পক্ষ থেকে অনশন মঞ্চে যাওয়ার আমন্ত্রণ আসেনি।
মতুয়াদের সমর্থন নিয়ে ২০২১ বিধানসভা এবং ২০২৪ লোকসভাতে জয়ী হয়েছে বিজেপি। কিন্তু এসআইআর আবহে মতুয়া-উদ্বাস্তুদের সমর্থন কি পাবে বিজেপি। সেই প্রশ্নও উঠছে। এবিষয়ে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপি সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, মতুয়ারা জানেন একমাত্র বিজেপি পারে তাঁদের নাগরিকত্ব দিতে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এসআইআর হলে কোনও মতুয়ার নাম বাদ যাবে না।