


নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তোলা না পেয়ে বরানগরের এক ব্যবসায়ীকে ফ্ল্যাট থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের ঘটনা ঘটে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারির সেই ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে আগেই গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। কিন্তু সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ওই ব্যবসায়ীকে মারধর করতে দেখা গিয়েছে যাকে, সেই মূল অভিযুক্ত তথা তৃণমূল ছাত্র নেতা অর্পণ দত্ত পলাতক ছিল। প্রায় আট দিন পর শনিবার রাতে ডানকুনি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে বরানগর থানার পুলিশ। রবিবার তাকে বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। তবে ওই ঘটনার মূল ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে অভিযোগ উঠেছে শঙ্কর রাউতের বিরুদ্ধে। পুলিশ এই প্রভাবশালী আইএনটিটিইউসি নেতার বিরুদ্ধে পদক্ষেপের সাহস দেখাবে, নাকি অন্যান্য বারের মতো এবারও তাঁর দাপট অব্যাহত থাকবে, এই প্রশ্নে বরানগরজুড়ে চলছে তীব্র জল্পনা।
বরানগরের বনহুগলির বাসিন্দা সুদীপ্ত ঘোষ ইন্টেরিয়র ডেকোরেশনের কাজ করেন। তিনি বারাসতের একটি ফ্ল্যাটে সেই কাজই করছিলেন। অভিযোগ, প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে গেলেও সুদীপ্তবাবু ফ্ল্যাট মালিকের থেকে টাকা পাননি। কাজ বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁকে হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছিল। সুদীপ্তবাবুর অভিযোগ, গত ১৪ তারিখ শঙ্কর রাউত তাঁর চার শাগরেদকে ফ্ল্যাটে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তারা শঙ্করের ‘নিদান’ ফোনের লাউড স্পিকারে শোনায়। সুদীপ্তবাবুকে শঙ্কর তাঁর ক্লাবে আসতে বলেন। তিনি সেই ‘নির্দেশ’ মানতে অস্বীকার করেন। যাননি শঙ্করের ক্লাবে। এরপর ওই শাসক নেতার নির্দেশমতো চার অভিযুক্ত তাকে মারতে মারতে ক্লাবে তুলে নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা তোলা চাওয়া হয়। তা দিতে তিনি অস্বীকার করলে ফের মারধর করা হয়। সুদীপ্তবাবুকে ফ্ল্যাট থেকে মারধর করতে করতে তুলে নিয়ে যাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসতেই ছড়ায় তীব্র বিতর্ক। অভিযোগের ভিত্তিতে ওই দিনই পুলিশ রাহুল যাদব ওরফে বগা ও আয়ুষ কুণ্ডু ওরফে গোপালকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন গ্রেপ্তার করা হয় অরিত্র দাস ওরফে দীপকে। কিন্তু শঙ্কর রাউতের প্রধান শাগরেদ অর্পণ অধরা থাকায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত শনিবার রাতে পুলিশ তাকে ডানকুনি থেকে গ্রেপ্তার করে।
এদিকে, গত সপ্তাহে বরানগর থানা নোটিস দিয়ে ডেকে পাঠায় শঙ্করকে। ঘণ্টা দু’য়েক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ-প্রশাসন আদৌ কোনো পদক্ষেপ করবে কি না, তা নিয়ে ঘোর সংশয় তৈরি হয়েছে নাগরিকদের মধ্যে।