


অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: আস্ত সিনেমা হল যেন একটা। বাইরে ‘জীর্ণ টিকিট কাউন্টার’। তবে হলের ভিতর পা রেখে চমকে উঠছেন দর্শকরা! সিনেমা চলছে না। কিন্তু যাঁদের সিনেমা অমর হয়ে রয়েছে, তাঁদের সেই সব অমূল্য সম্পদ প্রদর্শিত হচ্ছে। কী নেই সেই তালিকায়? শ্যুটিংয়ে ব্যবহৃত উত্তম কুমারের কোট থেকে সত্যজিৎ রায়ের হাতে লেখা স্ক্রিপ্ট। গিরিশ ঘোষের লেখা চিঠি থেকে কলকাতার পুরনো সিনেমা হলের টিকিট। যে হলগুলি বন্ধ হয়ে গিয়েছে সে সবই রয়েছে প্রায়। বইমেলা প্রাঙ্গণে এমন একটি অসাধারণ স্টল বাঙালির নস্টালজিয়া খুঁচিয়ে দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছে পুরনো সে সব দিন। এই অভিনব স্টল ও প্রদর্শনীর আয়োজক ‘কলকাতা কথকতা’ এবং ‘আর্ট অলিন্দ’। ১ অথবা ২ নম্বর গেট দিয়ে ঢুকে অল্প এগলেই রয়েছে এই স্টল। বাইরে বড় অক্ষরে লেখা, ‘হিস্ট্রি অব বেঙ্গলি সিনেমা মহানায়ক’। স্টল সাজানো হয়েছে প্রদর্শনীর আকারে। মূল আকর্ষণ, জন্মশতবর্ষে উত্তম কুমার। নায়ক সিনেমায় মহানায়ক যে কোট-প্যান্ট পরেছিলেন তা দেখতে ভিড় করছেন উত্তমপ্রেমীরা। সেটির পাশে রাখা, গৌরীদেবীকে লেখা মহানায়কের হাতে লেখা চিঠি। উল্টোদিকের সম্ভার চোখ আরও কপালে তুলবে। ১৯৭১ সালে সীমাবদ্ধ সিনেমায় সত্যজিৎ রায়ের নিজের হাতে লেখা স্ক্রিপ্ট। এছাড়া ঋত্ত্বিক ঘটকের হাতের লেখাও রয়েছে। রয়েছে গিরিশ ঘোষের লেখা চিঠিও। এগুলি বাংলার অমূল্য সম্পদ। দর্শকরা দেখছেন। মোবাইলে বন্দি করছেন ‘উত্তম থেকে সত্যজিৎ’।
স্টলের বাইরেও অভিনবত্ব। টিকিট কেটে দেখা যাচ্ছে, পুরানো ‘বায়োস্কোপ’। সেখানেও ভিড় বাচ্চা থেকে বুড়ো, সকলেরই। কলকাতা কথকতা’র সহ সম্পাদক উজ্জ্বল সর্দার বলেন, ‘উত্তম কুমারের এই স্যুট তাঁর পরিবারের সংগ্রহ থেকে নিয়ে আসা হয়েছে। বাকি সংগ্রহগুলি ব্যক্তিগত। আমরা সবাই মিলে সংগ্রহ করেছি। তারপর দর্শকদের সামনে এনেছি।’ তিনি জানালেন, বীণা, রূপবাণী, প্যারাডাইস, উত্তরা, দর্পণা’র মতো পুরনো সিনেমা হলের আসল টিকিট রাখা আছে। যে সিনেমা হলগুলি অধিকাংশ আর চালু নেই। এখানে বহু দুষ্প্রাপ্য সংগ্রহ রয়েছে। বইমেলায় দর্শকদের কাছে এগুলি বাড়তি পাওনা। নিজস্ব চিত্র