


ভোপাল: ‘স্বামীকে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে খুনের অভিযোগ রয়েছে আপনার বিরুদ্ধে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট নিয়ে কিছু বলতে চান?’ প্রশ্ন করেছিলেন হাইকোর্টের বিচারপতিরা। উত্তরে অভিযুক্ত মহিলা বলেন, ‘হুজুর কোনটা থার্মাল বার্ন আর ইলেকট্রিক বার্ন, ময়নাতদন্তে তা আলাদা করে বোঝা সম্ভব নয়।’ এভাবেই প্রকাশ্য এজলাসে রসায়নের পাঠ দিলেন অভিযুক্ত মমতা পাঠক। যা শুনে রীতিমতো হতবাক বিচারপতিদের বেঞ্চ। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের এই আজব ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তাজ্জব আইনজ্ঞ মহলও।
৬০ বছর বয়সি মমতা পেশায় রসায়নের সহকারী অধ্যাপক। ২০২১ সালে স্বামীকে খুনের অভিযোগ ওঠে ছতরপুরে বাসিন্দা ওই মহিলার বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রথমে স্বামী নীরজ পাঠককে ভারী মাত্রার ঘুমের ওষুধ খাওয়ান মমতা। তারপর বৈদ্যুতিক শক দিয়ে খুন করেন। স্বামীকে খুনের পর ছেলেকে নিয়ে ঝাঁসি পালিয়ে যান। পুলিসি তদন্তে মমতা দাবি করেন, ১ মে বাড়ি ফিরে স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখেন তিনি। তদন্তের মাঝেই পুলিসের হাতে আসে একটি ভয়েস রেকর্ডিং। সেখানে মমতার বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ করতে শোনা যায় নীরজকে। পরে নীরজদের গাড়িচালক জানান, মমতা তাঁর কাছে ‘বড়’ ভুলের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। যাবতীয় তথ্য মমতার দিকেই ইঙ্গিত করছিল। অবশেষে মমতাকে পূর্বপরিকল্পিত খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন দেয় দায়রা আদালত।
নিম্ন আদালতের রায়ের বিরোধিতা করে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা। গত বছর জামিনও পান তিনি। ২৯ এপ্রিল বিচারপতি বিবেক আগরওয়াল ও বিচারপতি দেবনারায়ণ মিশ্রের বেঞ্চে মামলার শুনানি চলছিল। সেদিন অবশ্য রায় সংরক্ষিত রাখে হাইকোর্ট। সেই শুনানিতেই এজলাসে রীতিমতো মাস্টারক্লাস করান মমতা। টিস্যুর ভিতর দিয়ে বৈদ্যুতিক প্রবাহ গেলে কি হয়, তার জটিল বিশ্লেষণ করেন রসায়নের অধ্যাপক। জমে থাকা মেডিক্যাল মেটালের পরিমাণ, ল্যাব পরীক্ষায় অ্যাসিড ভিত্তিক পৃথকীকরণ থেকে শুরু করে রাসায়নিক বিক্রিয়া—বিস্তারিতভাবে সবকিছু বুঝিয়ে দেন মমতা। তিনি আরও বলেন, এই সূক্ষ্ম বিভাজন খালি চোখে ধরা পড়ে না। ল্যাব পরীক্ষায় বোঝা সম্ভব। অভিযুক্ত অধ্যাপকের ব্যাখ্যা শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেন বিচারপতিরা।