


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বঙ্গোপসাগরে মঙ্গলবার যে সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছে সেটি আগামী কয়েকদিনে আরও শক্তিবৃদ্ধি করলেও এরাজ্যের উপর সরাসরি কোনও প্রভাব ফেলবে না। জানিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। কারণ নিম্নচাপটির অভিমুখ তামিলনাড়ু পুদুচেরি অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের দিকে। এই নিম্নচাপ থেকে আগামী পাঁচদিন এরাজ্যের জন্য কোনও সতর্কতা নেই বলেই জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। আগামী শনি থেকে সোমবার পর্যন্ত রাজ্যের প্রায় সব জেলাতেই কিছু স্থানে হালকা থেকে মাঝারি মাত্রায় বৃষ্টি হতে পারে। জানানো হয়েছে আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাসে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই বৃষ্টির সঙ্গে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটির পরোক্ষ সম্পর্ক আছে। কারণ ওই সিস্টেমটির জন্য রাজ্যের বায়ুমণ্ডলের নীচের স্তরেও সমুদ্র থেকে বেশি পরিমাণে জলীয় বাষ্প প্রবেশ করবে। তার থেকে বৃষ্টির মেঘ তৈরি হবে। তবে এই বৃষ্টি সব জায়গায় হবে না। কোনও কোনও জায়গায় হবে।
তবে দক্ষিণ আন্দমান সাগর ও তার লাগোয়া এলাকায় আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর। এই ঘূর্ণাবর্তটি শক্তিশালী হয়ে কোন জায়গায় প্রভাব ফেলবে, তার উপর নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর। এখন বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপটি শক্তি বাড়াচ্ছে সেটির সূচনা হয়েছিল দক্ষিণ আন্দমান সাগর লাগোয়া এলাকায়। বর্ষা বিদায় নেওয়ায়, অক্টোবর-নভেম্বরে আন্দমান সাগর এলাকায় কোনও নিম্নচাপ-ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হলে সেটি শক্তিবৃদ্ধি করে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে যে সুস্পষ্ট নিম্নচাপটি মঙ্গলবার তৈরি হয়েছে সেটি আজ বুধবার আরও শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। জানাচ্ছে আবহাওয়া দপ্তর। নিম্নচাপটি তারপর আরও শক্তিবৃদ্ধি করবে বলা হলেও, সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আবহাওয়া দপ্তর তা জানায়নি। এটি থেকে ঘূর্ণিঝড় হওয়া নিয়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাস প্রদানের বিভিন্ন মডেলের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য আছে। কোনও কোনও মডেল বলছে, এটির তীব্রতার নিরিখে অতিগভীর নিম্নচাপ হবে। কোনও কোনও মডেল অবশ্য ঘূর্ণিঝড় হওয়ার সম্ভাবনার কথাই বলেছে। ঘূর্ণিঝড় হলে তার নাম হবে ‘মোন্থা’। এই নামটি থাইল্যান্ডের দেওয়া।
নিম্নচাপটির অভিমুখ পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে আছে। সেটি তামিলনাড়ু-পুদুচেরি-অন্ধ্র উপকূলের দিকে যাচ্ছে। অভিমুখ নির্ভর করে বায়ুপ্রবাহের গতিপথসহ আরও কিছু বিষয়ের উপর। সমুদ্রে কোনও নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে সেটি কোন দিকে যাবে, এসব পরিস্থিতি যাচাই করেই তার পূর্বাভাস দেন আবহাওয়াবিদরা। পরের ঘূর্ণাবর্তটির গতিপথ কী হবে, তার উপর নির্ভর করছে এটি কোন জায়গায় দুর্যোগ সৃষ্টি করবে।