


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদি মনে করেন, রাজনীতিতে ফুলস্টপ হয় না। অবসরও হয় না। যাঁরা দীর্ঘকাল ধরে সংসদীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের অভিজ্ঞতা চিরকালই মূল্যবান থেকে যায়। এবং পরবর্তীকালে যা কাজে লাগে। রাজ্যসভার ৫৯ জন সদস্য অবসর নিচ্ছেন। ২০টি রাজ্য থেকে নির্বাচিত এই বিদায়ী এমপিদের বিদায় সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হল বুধবার। আর সেখানেই জনতা দল (সেকুলার) বা জেডিএস সুপ্রিমো এইচ ডি দেবেগৌড়ার উদ্দেশে এক সরস মন্তব্য ছুড়ে দিলেন কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়্গে। বললেন, ‘দেবেগৌড়াজির প্রেম ছিল কংগ্রেসের সঙ্গে। কিন্তু বিয়ে করলে মোদিজিকে!’ তাতেই হাসির রোল উঠল গোটা সভাজুড়ে।
যুদ্ধ, বাণিজ্য চুক্তি, আমেরিকার ভারত বিরোধী মনোভাব, এসআইআর, রান্নার গ্যাসের আকাল, এপস্টাইন ফাইল ইত্যাদি নানাবিধ ইস্যুতে বিরোধী বনাম সরকারপক্ষের সংঘাত চলছে বাজেট অধিবেশনের দুই দফাতেই। বিরোধ, বিক্ষোভ, আক্রমণ, প্রতি আক্রমণ, ওয়াক আউট, স্লোগান, অনাস্থা প্রস্তাব—কী হয়নি! সেই যুদ্ধং দেহি সংসদীয় চিত্র আমূল বদলে গেল এদিন। দেখা গেল সব পক্ষের মধ্যে কৌতুক, হাস্য, বেদনা, আবেগ, স্তুতি, প্রশংসা, শুভকামনার জোয়ার। সাধারণত রাজ্যসভার এমপিদের অবসরের সময় ফেয়ারওয়েল স্পিচের এক রীতি রয়েছে। একসঙ্গে ৫৯ জন রাজ্যসভা এমপির বিদায়ের প্রেক্ষিতে তাই সব দলই ছিল স্মৃতিকাতর। তবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে সেই গম্ভীর পরিবেশকে ভেঙে দিলেন এক লহমায়। তিনি নিজে কর্ণাটকের রাজনীতিক। তাই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী তথা কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি দেবেগৌড়া সম্পর্কে খাড়্গে এদিন বলেন, ‘দেবেগৌড়াজির সঙ্গে আমার ৫৪ বছরের সম্পর্ক। দেবেগৌড়াজির প্রেম ছিল কংগ্রেসের সঙ্গে। আমাদের সঙ্গে ভালোবাসা হল, অথচ তিনি মোদিজিকে বিয়ে করলেন। হঠাৎ কী হল বুঝলাম না!’ এই মন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গেই ট্রেজারি বেঞ্চের সামনের আসনে বসে থাকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অট্টহাসি করে উঠলেন। হেসে লুটিয়ে পড়ল সরকার ও বিরোধী উভয় পক্ষই।
আসলে কর্ণাটকে কংগ্রেসের সঙ্গে দেবেগৌড়ার দল জোট করে সরকারও গঠন করেছিল। কিন্তু তারপর সেই জোট ছেড়ে বেরিয়ে আসে জেডিএস। বিগত লোকসভা ভোটেও তারা এনডিএতে থেকেই লড়াই করে। দেবেগৌড়া ও তাঁর দল এভাবে ইউপিএ ছেড়ে দেওয়ায় কংগ্রেস যে হতচকিত হয়েছিল, সেটাই এদিন বোঝাতে চাইলেন খাড়্গে। রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশও এদিন অবসর নিয়েছেন। ডেরেক ও’ব্রায়েন, সঞ্জয় সিং, তিরুচি শিবা, সম্বিত পাত্ররা বলেন, রাজ্যসভায় দুই বিবদমান পক্ষ থাকলেও আদতে সব পক্ষই একে অন্যের থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে। রাজ্যসভাকে তাই প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একটি ওপেন ইউনিভার্সিটি!