


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সকাল সাতটা থেকে লম্বা লাইন। লোকজন এসেছে কলকাতার বাইরে থেকেও। ঘণ্টা তিনেক দাঁড়িয়ে তবে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছনো যাচ্ছে। লক্ষ্যটা কী? প্রাচীন বেকারির তৈরি একখানা কেক। কেকের লাইনে সনাতন ধর্ম, সেকুলার, সংখ্যালঘু সব মিলেমিশে একাকার। কলকাতার নিউ মার্কেট চত্বরে একটি কেকের দোকানের দৃশ্য এখন ঠিক এমন। এই নিউ মার্কেট থেকে ১০ মিনিটের হাঁটা পথ হল রফি আহমেদ কিদওয়াই রোড। সেখানে একটি জীর্ণ বাড়ির ভিতরে বসে থাকেন ৯৪ বছরের চীনা সিএইচ চাং। ৬৫ বছর ধরে তিনি নিজে হাতে তৈরি করেন সান্তাক্লজ, ক্রিসমাস ট্রি।
নিউ মার্কেটের ভিতর সেই কেকের দোকান খুঁজতে সারাবছর মানুষের সমস্যা হতে পারে। কিন্তু এই সময় তা হয় না। কারণ যে কোনও গেট দিয়েই প্রবেশ করলেই দেখা যায় লাইন পড়েছে। সেই লাইন গিয়ে শেষ হচ্ছে কেকের দোকানটিতে। মধ্যমগ্রাম থেকে সকাল ছ’টায় বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন স্বর্ণেন্দু ঘোষ। বললেন, ‘কাজের দিন দেখে ভাবলাম ভিড় কম হবে। কিন্তু এসে দেখি আমার আগে জনা তিরিশ লোক দাঁড়িয়ে আছেন। দোকান তখনও খোলেনি। আর বেলার দিকে ১০০ জনেরও বেশি লোক লাইনে দাঁড়িয়ে।’ কেকের জন্য দীর্ঘক্ষণ দাঁড়াতে কোনও অসুবিধা নেই কারও। একজন বললেন, ক্রিসমাস কেক না খেলে ঠিক বাঙালি হওয়া যায় না।
এখন আবার বাঙালি হওয়া যায় না ক্রিসমাসে বাড়ি না সাজাতে পারলেও। তা সাজানোর ব্যবস্থা রেখেছেন চাং। রফি আহমেদ কিদওয়াই রোডের জীর্ণ বাড়িতে বসে ৯৪ বছরের বৃদ্ধ ৬৫ বছর ধরে নিজের হাতে সান্তাক্লজ, ক্রিসমাস ট্রি তৈরি করছেন। তিনি বলেন, ‘১৯৩৫ সালে বাবা-মা চীন থেকে কলকাতায় এসেছিলেন। আমার জন্ম এখানেই। আমি আর ও দেশে ফিরে যাইনি। এখানে বিয়েও হয়েছে। এক ছেলে কানাডাতে থাকে। দুই মেয়েও রয়েছে।’ চীনা চাংকে এখন লড়াই করতে হয় চীনা জিনিসপত্রর সঙ্গে। বললেন, ‘আগের চেয়ে ব্যবসা কমে অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। আমার জিনিসপত্র সব পাইকারি দামে ক্যানিং স্ট্রিটে যায়। গড়িয়াহাট, নিউ মার্কেটের ব্যবসায়ীরাও নিয়ে যান। এখন তো চীনা জিনিসপত্র চলে এসেছে। ফলে ব্যবসায় কোপ পড়েছে। কিন্তু আমার সংসার চালানোর জন্য টাকা ঠিক এসে যায়।’ চাং সারাবছরই সান্তাক্লজ তৈরি করেন। এসময় দম ফেলার সময় নেই। ব্যবসায়ীরা মাল নিতে এলেই কর্মচারীদের বলছেন, ‘সব দেখে-শুনে দাও। কারও যেন কোনও সমস্যা না হয়।’ নিজস্ব চিত্র