Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

জমি কেলেঙ্কারি: তদন্ত দাবি শারদের, এবার মন্ত্রী প্রতাপের বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ কংগ্রেসের

‘জমি হাঙর’ হয়ে ঘুরছেন শাসক শিবিরের নেতারাই! উঠছে একের পর এক কেলেঙ্কারির অভিযোগ। রাজ্যের বড় বড় শহরে জমি দুর্নীতির এইসব অভিযোগ ঘিরে সরগরম ‘ডাবল ইঞ্জিন’ মহারাষ্ট্র।

জমি কেলেঙ্কারি: তদন্ত দাবি শারদের, এবার মন্ত্রী প্রতাপের বিরুদ্ধে জমি দুর্নীতির অভিযোগ কংগ্রেসের
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

মুম্বই ও পুনে: ‘জমি হাঙর’ হয়ে ঘুরছেন শাসক শিবিরের নেতারাই! উঠছে একের পর এক কেলেঙ্কারির অভিযোগ। রাজ্যের বড় বড় শহরে জমি দুর্নীতির এইসব অভিযোগ ঘিরে সরগরম ‘ডাবল ইঞ্জিন’ মহারাষ্ট্র। পুনে জৈন বোর্ডিং মামলায় জড়িয়েছে বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলীধর মহলের নাম। সেই রেশ কাটার আগেই উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের ছেলে পার্থ ও তাঁর সংস্থার বিরুদ্ধে সামনে এসেছে গুরুতর অভিযোগ। নিয়ম লঙ্ঘন করে ১ হাজার ৮০০ কোটির সরকারি জমি মাত্র ৩০০ কোটিতে দখলের অভিযোগ উঠেছে। বিপাকে পড়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন মহাযুতি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। উপমুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে অজিত পাওয়ারের ইস্তফার দাবি তুলেছে বিরোধী মহা বিকাশ আঘাড়ি (এমভিএ)। তারই মধ্যে এবার নয়া অভিযোগ। প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস বিধায়ক ওয়াড়েত্তিওয়ারের দাবি, মহাযুতি সরকারের মন্ত্রী প্রতাপ সরনায়েক নিজের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তৈরির নামে ২০০ কোটির জমি দখল করেছেন মাত্র ৩ কোটি টাকায়। ৪ একরের এই প্লটটি মীরা-ভাওয়ান্দার এলাকার একেবারে প্রাইম লোকেশনে। বিজেপি শরিক শিবসেনার একনাথ সিন্ধে শিবিরের নেতা সরনায়েক পরিবহণমন্ত্রী। কংগ্রেস বিধায়কের তোলা অভিযোগ অবশ্য মন্ত্রী অস্বীকার করেছেন।  জমি দুর্নীতি নিয়ে ক্ষমতাসীন মহাযুতি শিবিরের উপর চাপ বাড়িয়েছে বিরোধী শিবির।। কাকা শারদ পাওয়ারের দল এনসিপিতে ভাঙন ধরিয়ে এনডিএ সরকারের সঙ্গে হাত মিলিয়েছিলেন অজিত। তাঁর পুত্রের বিরুদ্ধেই এখন জমি দুর্নীতির অভিযোগ। বিরোধী শিবিরের প্রবীণ নেতা শারদ শনিবার বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং স্বীকার করেছেন বিষয়টি গুরুতর। তাই উপযুক্ত তদন্তের মাধ্যমে আসল ঘটনা মানুষের সামনে আনা উচিত তাঁর।’ জমি দুর্নীতির নিয়ে অজিতকে কি সরকারে তাঁর বর্তমান সহযোগীরাই ফাঁসানোর ছক কষেছেন? এই প্রশ্নের জবাব অবশ্য এড়িয়ে গিয়েছেন সিনিয়র পাওয়ার। 

Advertisement

শারদ এড়িয়ে গেলেও অজিতের বিরুদ্ধে শাসক শিবির থেকেও কড়া প্রতিক্রিয়া সামনে আসতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে ছেলে পার্থর ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে দূরত্ব তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন অজিত।  উপমুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বিতর্কিত ওই জমি চুক্তি নিয়ে তাঁর কিছুই জানা নেই। অজিতের সাফাই, ‘সন্তান বড়ো হয়ে গেলে তারা নিজের নিয়মে চলে।’ যদিও তাঁকে খোঁচা দিতে ছাড়েননি বিজেপি সাংসদ নারায়ণ রানে। তাঁর বক্তব্য, ‘সন্তান বড়ো হয়ে গেলেও (মা-বাবার প্রতি) অনুগত থাকা উচিত।’ বিড়ম্বনা এড়াতে অজিত জানিয়েছেন, তাঁর ছেলের সংস্থার সঙ্গে বিতর্কিত ওই জমি চুক্তি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। এই চুক্তি বাতিলের জন্য  পার্থর সংস্থাকে ৪২ কোটি টাকার স্ট্যাম্প ডিউটি দিতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ