Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

অযোগ্যদের উপর ভরসা করেই ডুবল কলকাতা নাইট রাইডার্স

চেন্নাইয়ের কাছে হারার পর অজিঙ্কা রাহানেকে বলতে শোনা গেল, ‘এখনও সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। অঙ্কের হিসেবে প্লে-অফের পথ খোলা।’ কেকেআর ক্যাপ্টেন ঠিকই বলেছেন।

অযোগ্যদের উপর ভরসা করেই ডুবল কলকাতা নাইট রাইডার্স
  • ৯ মে, ২০২৫ ১৭:০৫
Prefer us on Google

সুকান্ত বেরা, কলকাতা: চেন্নাইয়ের কাছে হারার পর অজিঙ্কা রাহানেকে বলতে শোনা গেল, ‘এখনও সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। অঙ্কের হিসেবে প্লে-অফের পথ খোলা।’ কেকেআর ক্যাপ্টেন ঠিকই বলেছেন। স্বপ্ন দেখতে ও দেখাতে কীসের বাধা?  রাহানে ভালোই জানেন, তাঁরা কোমায় ঢুকে পড়েছেন। ঈশ্বর মুখ তুলে না তাকালে জেনারেল বেডে ফেরার কোনও সম্ভাবনা নেই। গঙ্গাপ্রাপ্তি নিশ্চিত। তবুও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার মরিয়া চেষ্টা।

Advertisement

প্রশ্ন হচ্ছে, কেকেআরের এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী কে বা কারা? কোচ থেকে ক্যাপ্টেন, ক্রিকেটার থেকে সিইও— স্বপ্নের অপমৃত্যুর নেপথ্যে প্রত্যেকেরই হাত রয়েছে। প্লেয়াররা মাঠে নেমে পারফর্ম করেন। কখনও সাফল্যের শিখর স্পর্শ সম্ভব হয়, কখনও হারিয়ে যেতে হয় ব্যর্থতার চোরাবালিতে। দল হারলে তাঁরাই হয়ে দাঁড়ান আক্রমণের সহজ টার্গেট। আড়ালে থেকে যান ঘরে বসে ভুলভাল ঘুঁটি সাজানো বোদ্ধারা। ভুললে চলবে না, একটা যুদ্ধ কিংবা লড়াই জেতার জন্য দরকার সুচারু পরিকল্পনা, যোগ্য নেতৃত্ব এবং টিম গেম। এই তিন ক্ষেত্রেই ব্যর্থ কেকেআর।
অধঃপতনের সূচনা নিলামের টেবিলেই। যাকে বলে গোড়ায় গলদ। শ্রেয়স আয়ারের মতো সফল অধিনায়ককে ছেড়ে দেওয়ার কারণ আজও অজানা। শোনা যায়, টাকা-পয়সা নিয়ে বনিবনা না হওয়ার কারণেই নাকি রিলিজ করে দেওয়া হয়েছিল চ্যাম্পিয়ন দলের ক্যাপ্টেনকে। সেই শ্রেয়সকে ২৬.৭৫ কোটি টাকা দিয়ে দলে নিয়েছে পাঞ্জাব। এই পরিমাণ অর্থ কি দিতে রাজি ছিলেন না শাহরুখ খান? নাকি তাঁকে ভুল বোঝানো হয়েছিল? কলকাতা ময়দানে তিন প্রধানের ফুটবল দল গঠনে কাটমানির কাহিনি নতুন নয়। সেই ভাইরাসে কি আক্রান্ত নাইট শিবিরও? প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক। শ্রেয়সকে যেখানে ২৬ কোটি দিতে বাধছে, সেখানে কোন যুক্তিতে বেঙ্কটেশ আয়ারের পিছনে ঢালা হল ২৩.৭৫ কোটি? আসলে কোটার খেলোয়াড়দের খেলিয়ে পকেট ভরানোর কৌশল তো নতুন নয়। আর ইনভেস্টর যখন অন্য জগত নিয়ে মেতে থাকেন, তখন তো ফায়দা তুলবেনই মাস মাইনের তথাকথিত ‘বস’ রা।
দায় কি এড়াতে পারেন কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিত? বাংলায় একটা প্রবাদ আছে— খাচ্ছিলো তাঁতি তাঁত বুনে, কাল হল তার এঁড়ে গোরু কিনে। কোচ পণ্ডিত ভালোই ছিলেন রনজি ট্রফি নিয়ে। এখন তিনি হাড়ে হাড়ে বুঝছেন, আইপিএলে কোচিং করানো কতটা জ্বালা। ওপেনিং কম্বিনেশনই ঠিক করে উঠতে পারলেন না তিনি। আবার বৈভবের মতো বোলারদের উপর বেশি ভরসা করতে গিয়েও ডুবলেন। এখন তাঁর চাকরি বাঁচানোই দায়!
ব্যাটসম্যান হিসেবে সফল রাহানে। তবে অধিনায়কত্বের পরীক্ষায় ডাহা ফেল। না হলে চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে মরণ-বাঁচন ম্যাচে কেন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বৈভবের হাতে বল তুলে দেবেন? রাসেলকে লুকিয়ে রাখার মধ্যেও আঁশটে গন্ধ পাওয়া যায়। রাহানে তাঁর ক্যাপ্টেন্সির ভুল স্বীকারও করে নিয়েছেন। কিন্তু ততক্ষণে সবকিছুই প্রায় শেষ।
আসলে যাঁরা ছিলেন গতবার খেতাব জয়ের কারিগর, তাঁরাই এবার দলকে টেনে নামাচ্ছেন তলানিতে। বেঙ্কটেশ আয়ার, রিঙ্কু সিংরা আস্থার মর্যাদা দিতে ব্যর্থ। অ্যানরিখ নর্তজের চোট কিংবা কুইন্টন ডি’ককের অফ ফর্ম  টিম কম্বিনেশনের ভারসাম্য নষ্ট করেছে। এসব দেখে আগামীর কথা ভেবে চিন্তাভাবনারও বদল প্রয়োজন নাইট রাইডার্স কর্তাদের। সবার আগে ‘বুড়ো খোকা’দের উপর ভরসা কমানো উচিত। অন্য দলের মতো জোর দেওয়া হোক তারুণ্যে। নতুন নায়ক খুঁজে নিতে পারলে নাইটদের ঘিরে আবার শোনা যাবে করব...লড়ব...জিতব...রে...।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ