Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কিডনি পাচারচক্র: ধৃত আইনজীবীর ফোন থেকে মিলল একাধিক হেভিওয়েটের নাম

অশোকনগরের কিডনি পাচারচক্রে ধৃত আইনজীবী প্রদীপকুমার বরের ফোন থেকে বেশ কয়েকজন ‘হেভিওয়েট’-এর খোঁজ পেয়েছে পুলিস। এবার তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা।

কিডনি পাচারচক্র: ধৃত আইনজীবীর ফোন থেকে মিলল একাধিক হেভিওয়েটের নাম
  • ১০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশোকনগরের কিডনি পাচারচক্রে ধৃত আইনজীবী প্রদীপকুমার বরের ফোন থেকে বেশ কয়েকজন ‘হেভিওয়েট’-এর খোঁজ পেয়েছে পুলিস। এবার তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চান তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যে তাঁদের নোটিস পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে খবর। ধৃত আইনজীবীর ল্যাপটপ, মোবাইল বাজেয়াপ্ত করার পাশাপাশি কিডনি বিক্রি ও পাচার সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ অশোকনগর থানার পুলিসের হাতে এসেছে বলে খবর। ধৃতের বয়ান এবং তাঁর ল্যাপটপ, মোবাইল ঘেঁটে কিডনিদাতা, গ্রহীতা সহ একাধিক দালালের নাম পেয়েছে পুলিস।

Advertisement

চড়া সুদে টাকা ধার দিয়ে ঋণ গ্রহীতাদের দেনা শোধের জন্য কিডনি বিক্রির টোপ দিত দালালরা। অশোকনগর এলাকার সুদখোর বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতলকে গ্রেপ্তার করার পর এই কিডনি পাচারচক্রের পর্দা ফাঁস করে অশোকনগর থানার পুলিস। পরবর্তী তদন্তে অমিত জানা সহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাঁদের জেরা করে আলিপুর আদালতের আইনজীবী প্রদীপকুমার বরের নাম জানা যায়। কিডনি দানের ক্ষেত্রে নিয়ম হল, স্বাস্থ্যদপ্তরের ছাড়পত্র পাওয়ার পর আবেদনকারীকে এফিডেভিট করাতে হয় স্থানীয় আদালত থেকে। তদন্তে পুলিস জানতে পারে, শীতল সহ কিডনি পাচারে জড়িতরা দাতাদের এফিডেভিট করাতে নিয়ে যেত আলিপুর কোর্টের আইনজীবী প্রদীপকুমার বরের কাছে। অভিযোগ, জেলা ও রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের ‘নট রেকমেন্ডেড’ কেসও ধৃত আইনজীবীর হাতযশে আইনি সম্মতি পেয়ে যেত। এর জন্য তিনি ৫০০ টাকার জায়গায় একটি এফিডেভিট করাতে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা নিতেন। ‘নট রেকমেন্ডেড’ কেসের ক্ষেত্রে এই আইনজীবী লক্ষ লক্ষ টাকা হাতাতেন বলেও জানতে পারে পুলিস। তাঁর সঙ্গে কিডনি পাচারে যুক্ত দালাল থেকে শুরু করে দাতা-গ্রহীতাদের যোগাযোগে প্রমাণও পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি পুলিসের। 
ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের গোটা পর্বই রেকর্ড করেছে পুলিস। প্রদীপের ল্যাপটপ, মোবাইল সহ এফিডেভিট সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। তা থেকে আইনজীবীর হাতের লেখা এবং সই মিলিয়ে নিতে চাইছেন তদন্তকারীরা। তাঁর ফোন থেকে কিছু কল ডিটেইলস ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ডিলিট করা হয়েছে। সেই সব তথ্য জানার জন্য মোবাইল ফরেন্সিকে পাঠানো হচ্ছে। বারাসত পুলিস জেলার সুপার প্রতীক্ষা ঝাড়খড়িয়া বলেন, ‘ধৃতের বয়ান থেকে কয়েকজনের নাম পাওয়া গিয়েছে। তাঁদেরও তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’

সম্পর্কিত সংবাদ