


গ্রামে মন্ত্রিসভার বৈঠক। পুলিসে পুলিসে ছয়লাপ। তাজ্জব হয়ে গিয়েছিলেন এলাকার মানুষজন। রাজ্যের নেতা, বিধায়ক, মন্ত্রী সবাই হাজির। একদিন নয়, টানা সাতদিন ধরে। গ্রামের মধ্যে বৈঠক বসেছে রাজ্যের মন্ত্রিসভার। তা দেখার জন্য আশেপাশের এলাকা থেকে মানুষের ভিড়। কে ছিল না সেই তালিকায়— প্রফুল্ল সেন, অজয় মুখোপাধ্যায়, অতুল্য ঘোষের মতো বাঘা বাঘা সব রাজনীতিবিদ। তখনও স্বাধীনতার কুড়ি বছর পার হয়নি। রাজ্যে যুক্তফ্রন্ট সরকারও গঠন হয়নি। প্রফুল্ল সেনের মন্ত্রিসভার বৈঠক হয়েছিল কান্দির কাছে বহরার চিত্তবিনোদন হলে। সেখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। ওই নেতাদের দেখাশোনা করার জন্য আশেপাশের গ্রামের যুবকদের অনেককেই স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছিল। তাছাড়া সেই সময় একাধিকবার জাতীয় কংগ্রেসের রাজ্যস্তরের বৈঠকও হয়েছে সেখানে। সেই হল আজও আছে স্বমহিমায়। ওই হলের কাছে বিধানসভার অধিবেশন কক্ষের আদলে পঞ্চায়েতের মিটিং হল করা হয়েছিল। যশোহরি আনোখা পঞ্চায়েতের সেই মিটিং হলও রয়েছে এখনও। তবে ইতিমধ্যে কয়েক দশক ধরে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। চিত্তবিনোদন হলে এখন আর নাটক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সেভাবে হয় না। রাজ্যস্তরে ওই এলাকার রাজনৈতিক গরিমাও এখন আর বিশেষ নেই। চিত্তবিনোদন হলের পাশে একটি লাইব্রেরি হয়েছে। কিন্তু সেই স্বর্ণখচিত সমাবেশের চিহ্ন সেই পাঠাগারে বিশেষ নেই। নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছে সেই সোনালি অতীতের কথাও অজানা। পুরনো দিনের গৌরবময় দিনের কথা বলছিলেন এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আলোক ত্রিবেদী। তাঁর কথায়, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী সহ রাজ্য, জাতীয় স্তরের অনেক নেতাই বহরায় আসতেন।