


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে আচমকাই ইস্তফা দিয়েছিলেন উপ রাষ্ট্রপতি পদ থেকে। এবার কি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জগদীপ ধনকার? এমনই সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। আচমকা ইস্তফা দিলেও মোদি সরকারের উপর ধনকার ক্ষেপে রয়েছেন বলেই পদ্মশিবিরের অন্দরের খবর। সময়-সুযোগ বুঝে তিনি মুখ খুলতে পারেন বলে চাপ বাড়ছে বিজেপির অন্দরে। সূত্রের খবর, নিজের অবস্থান নিয়ে জাঠ সম্প্রদায়ের সঙ্গে কথা বলবেন ধনকার। কেন তাঁকে আচমকা ইস্তফা দিতে হল, জানাবেন সেকথা। তার পরেই কৌশলে হোক বা সরাসরি, সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিতে পারেন তিনি।
হিন্দি বলয়ে একটি প্রবাদ রয়েছে, ‘ঝুকা হুয়া জাঠ নেহি হোতে।’ অর্থাৎ জাঠ কখনও নত হন না। তাঁরা একবার বেঁকে বসলে মন ফেরানো কঠিন। ২১ জুলাই রাতে ইস্তফা দেওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জগদীপ ধনকারের সঙ্গে দেখা করতে যাননি। ইস্তফাপত্র প্রত্যাহারের অনুরোধও করেননি। তিনিও পাল্টা ‘গোঁসা’ করে কারও সঙ্গে দেখা করছেন না। শারদ পাওয়ার, সঞ্জয় সিং, এমনকী নিজের তুতো জামাই কংগ্রেস সাংসদ রাহুল কাঁসওয়া তাঁর কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়েছিলেন। জবাবে ‘না’ বলে দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে চর্চা, সরকারের সমালোচনায় কৃষক ইস্যুতে বক্তৃতা, চারবার বিদেশ (কম্বোডিয়া, কাতার, ব্রিটেন এবং ইরান) ভ্রমণ, সরকারি প্রকল্পে নিজের ছবি ছাপাতে জোরাজুরি, আমেরিকার উপ রাষ্ট্রপতি জেডি ভান্সের দিল্লি সফরে সাক্ষাৎ এড়িয়ে সেইদিনই রাজস্থান চলে যাওয়ার মতো ইস্যুতে মোদি-শাহের সঙ্গে ধনকারের মনোমালিন্য বাড়ছিল। বিচারপতি যশবন্ত ভার্মার অপসারণ ইস্যুতে সরকারের নোটিস গ্রহণের আগেই কেন বিরোধীদের চিঠি প্রাপ্তির ঘোষণা, তা নিয়েও দলের ক্ষোভ বুঝিয়ে দেন জেপি নাড্ডা, কিরেণ রিজিজু। সূত্রের খবর, শুরু হয় ‘ব্ল্যাকমেল’।
চেয়ারম্যানের ‘ক্ষমতা’ দেখিয়ে ১০ জন ‘কাছের লোক’কে রাজ্যসভায় নিয়োগ, অন্য যোগ্যদের এড়িয়ে চারজনকে স্থায়ী চাকরি, সংসদ টিভির তত্ত্বাবধান লোকসভা সচিবালয় থেকে কেড়ে রাজ্যসভা সচিবালয়ের হাতে নেওয়ার মতো ‘অনৈতিক’ কাজের কাগজ আস্তিন থেকে বের করার ‘জুজু’ দেখায় সরকার। সেই চাপের মুখেই ইস্তফা বলে চর্চা শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে। আগাম অ্যাপয়েনমেন্ট ছাড়াই রাত সাড়ে ন’টায় ধনকার পৌঁছে যান রাষ্ট্রপতি ভবন। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাক্ষাৎ পেতে অপেক্ষাও করেন ২৫ মিনিট। জমা দেন ইস্তফাপত্র। কোনও ‘অফিসিয়াল ফটো’ও তোলা হয়নি। পরদিনই গেজেট বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উপ রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকার ইস্তফা দিয়েছেন। এক মাসের মধ্যে তাঁকে ছাড়তে হবে ১০৮ চার্চ রোডের ঠিকানার নয়া ‘ভাইস প্রেসিডেন্ট এনক্লেভ’ তথা উপ রাষ্ট্রপতি ভবন। খোঁজা হচ্ছে নতুন বাংলো। নির্বাচন কমিশনও পরবর্তী উপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছে। ২১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে সংসদের বাদল অধিবেশন। সরকার চাইছে, তার মধ্যেই হোক নির্বাচন। যদিও কমিশন সূত্রে খবর, বিজ্ঞপ্তি জারি, ভোটদান থেকে ফলাফল, সময় দিতে হবে একমাস।