


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সেপ্টেম্বরের প্রথম থেকে ২০, ২২ অবধি গোটা পাড়া ছিল দুর্গার দখলে। তারপর এলাকার দখল নিয়ে নেন মা লক্ষ্ণী। তারপর ২০ অক্টোবর পর্যন্ত যেদিকে চোখ গিয়েছে কেবলই কালী আর কালী। এই মুহূর্তে কুমোরটুলি পুরোপুরি জগদ্ধাত্রীর দখলে। দোকানে দোকানে প্রমাণ সাইজের দেবীপ্রতিমা দাঁড়িয়ে আছে মণ্ডপে যাওয়ার প্রতীক্ষায়।
শনিবার কলকাতার কুমোরটুলিতে দেখা গিয়েছে, ছোট‑বড়‑মাঝারি সব আকারের জগদ্ধাত্রী প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে মৃৎশিল্পীদের ঘরে। ১৫, ১২ উচ্চতার সব মূর্তি। পুজো পরের সপ্তাহেই। ফলে এখন প্রতিমা গড়ার শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে দ্রুতগতিতে। রবীন্দ্র সরণি, দুর্গাচরণ ব্যানার্জি স্ট্রিট, কুমোরটুলি স্ট্রিট, বনমালি সরকার স্ট্রিট সহ পটুয়াপাড়ার বিভিন্ন এলাকায় কাজ চলছে। কোথাও বিচালির উপর পড়ছে মাটির প্রলেপ। কোথাও মাটির উপর সাদা রং চাপছে। কোনও কোনও শিল্পীর ঘরের সামনে রোদে শুকোচ্ছে দেবীর মুখ। মানিকতলার একটি সর্বজনীন পুজো কমিটির দুই কর্তা এসেছিলেন শিল্পী রাজা পালের স্টুডিওতে। আগমনের কারণ প্রতিমার কাজ কতটা এগিয়েছে তা দেখা। এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সিংহের কেশর আরও ঘন হবে।’ অন্যজন গতবছরের ফটো দেখিয়ে জরির কাজ আগের বারের মতো নিখুঁত করার অনুরোধ জানালেন।
শনিবার শিল্পী চায়না পালের ঘরে চরম ব্যস্ততা। সেখানে প্রতিমা রং করার কাজ চলছে। পাঁচ কারিগর একসঙ্গে কাজ করছেন। শোলাশিল্পী শম্ভুনাথ মালাকার শোলা কেটে বানাচ্ছেন ঠাকুরের অলঙ্কার। তিনি জানান, তাঁর তৈরি শোলার গয়না রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় যায়। বংশপরম্পরায় করছেন শোলার কাজ। তবে বর্তমানে শোলা গাছের সংখ্যা কমছে। ফলে সমস্যা বাড়ছে শিল্পীদের। এখন প্রতিমার সাজসজ্জায় জরির কাজ বেড়ে গিয়েছে। শিল্পী রঞ্জিত সরকার বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে ঠাকুরের মুকুট, মালা, হাতের বাউটি, চালচিত্র তৈরি করছেন। শিল্পী মালা পাল মাঝারি মাপের জগদ্ধাত্রী প্রতিমা তৈরি করছেন। কুমোরটুলির মৃৎশিল্পী সংগঠনের কর্তা বাবু পাল বলেন, ‘একসময় শান্তিপুর, চন্দননগর, রিষড়া ইত্যাদি কয়েকটি জায়গায় জগদ্ধাত্রী পুজো হত। এখন কলকাতার বিস্তীর্ণ এলাকাতেও হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় প্রতিমার বরাত বেড়েছে। ফলে শিল্পীরা খুশি। সকলে উপকৃত হচ্ছে।’ -নিজস্ব চিত্র