


নয়াদিল্লি: ইউক্রেন যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়াকে ভাতে মারতে চাইছে আমেরিকা ও তাদের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ন্যাটো। তাই মস্কোর থেকে তেল কিনতে ভারত, চীন ও ব্রাজিলকে বারণ করেছে তারা। নিষেধ সত্ত্বেও জ্বালানি ক্রয় করলে ১০০ শতাংশ শুল্কের হুমকি দিয়েছে ন্যাটো। কিন্তু, এধরনের শাসানিকে কোনও গুরুত্বই দিতে চাইছে না ভারত। ন্যাটোর হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাফ জানিয়েছেন, এই বিষয়ে যে কোনও দ্বিচারিতা থেকে সতর্ক থাকা উচিত সকলের।দেশবাসীর জন্য জ্বালানির প্রয়োজনীয়তা পূরণ করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এব্যাপারে সন্দেহের কোনও অবকাশ নেই।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি নিয়েও চিন্তিত নয় ভারত, সেকথা স্পষ্ট করে গিয়েছেন পেট্রোলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি। তিনি জানিয়েছেন, জ্বালানি ক্রয়ে বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। তাই রাশিয়া থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা হলে বিকল্প একাধিক দেশ রয়েছে। তবে আমাদের উপর কোনও চাপ নেই।
বিগত তিনবছর ধরে রাশিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ক্রয় করছে নয়াদিল্লি। ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে একাধিক ইউরোপীয় দেশ রাশিয়াকে তেল কেনা বন্ধ করে দেয়। নতুন ক্রেতা পেতে বড় ছাড় ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এর জেরে বিগত কয়েক বছর ধরে মস্কো থেকে তেল কেনা বাড়িয়েছে ভারত। চীন ও ব্রাজিলও একইপন্থা নিয়েছে। তাই রাশিয়ার অর্থনীতিতে ধাক্কা দিতে এই তিন দেশকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুরেই হুঁশিয়ারি দিয়েছে ন্যাটো। যদিও এধরনের হুঁশিয়ারিকে গুরুত্ব না দিতে ভারত সরকারকে পরামর্শ দিয়েছে গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (জিটিআরআই)। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাজার স্থিতিশীল নয়। মস্কোর থেকে সস্তায় তেল ক্রয় নয়াদিল্লিকে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেছে। আর্থিক স্থিতাবস্থা বজায় রেখেছে। তাই কোনও চাপের কাছে মাথা নত করলে চলবে না। ভারতকে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা চালু রাখতে হবে।