


নয়াদিল্লি: টি-২০ বিশ্বকাপ যত এগিয়ে আসছে ততই চাপ বাড়ছে পাকিস্তানের উপর। ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাক সরকার। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সরকারিভাবে আইসিসি’কে এই ব্যাপারে কিছুই জানায়নি। এমনকী, বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা বলার পরও কোনও লিখিত জবাব পাঠায়নি তারা। ফলে ধোঁয়াশা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে জট খুলতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে আইসিসি। বিশ্বক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থার সিইও সংযোগ গুপ্তা কথা বলেন পিসিবি’র সিইও সুমাইর আহমেদের সঙ্গে। আলোচনায় অংশ নেন পাক বোর্ডের আইনি পরামর্শদাতা তাফজুল রিজভি ও সলমন নাসির। পাশাপাশি আইসিসি’র প্রতিনিধি ইমরান খাওয়াজাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পিসিবি’কে সিদ্ধান্ত বদলে রাজি করানোর জন্য। চাপ বাড়াতে এটাও বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, তাদের গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিণাম কতটা খারাপ হতে পারে।
বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে না খেললে বড়সড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বে পিসিবি। সম্প্রচারকারী সংস্থা মামলাও করতে পারে তাদের বিরুদ্ধে। কলম্বোর আবহাওয়াও অবশ্য চাপে রাখছে পাকিস্তানকে। শ্রীলঙ্কাতেই গ্রুপের সবগুলি ম্যাচ রয়েছে পাকিস্তানের। ভারতের বিরুদ্ধে না খেললেও বাকি তিনটি ম্যাচ জিতে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী তারা। কিন্তু, এরমধ্যে অন্তত দুটো ম্যাচে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। যদি এই দুটোর মধ্যে একটা ম্যাচও বৃষ্টিতে ধুয়ে যায়, তবে বিপদে পড়বে সলমন আগার দল। সেক্ষেত্রে পয়েন্টের দিক থেকে পিছিয়ে পড়ার পাশাপাশি নেট রান-রেটও কমবে অনেকটা। শনিবার নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের প্রথম ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা ৬৪ শতাংশ। আর তা হওয়ার কথা ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে। ফলে ভেস্তে যেতে পারে ম্যাচ। ১৮ তারিখ নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে ২৫ শতাংশ। ১০ তারিখ আমেরিকা ও ১৫ তারিখ ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে যদিও বৃষ্টির কোনও আভাস নেই। সেজন্যই সূর্যকুমার যাদব ব্রিগেডের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তে পাকিস্তান শেষপর্যন্ত অনড় থাকে কিনা তা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। অনেকেই মনে করছেন, বাংলাদেশের ভোটের দিকে তাকিয়ে এমন অবস্থান নেওয়া হয়েছে। ১২ তারিখ পদ্মাপারে ভোট পর্ব মিটলেই ‘ইউ-টার্ন’ নেবে পাকিস্তান।