


মুল্লানপুর: ক্রিকেটের পরিভাষায় বলা হয় ‘ক্যাচেস উইন ম্যাচেস।’ কথাটা কতটা খাঁটি তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখাল আইপিএল এলিমিনেটর। শুক্রবার রোহিত শর্মার ব্যাটিং বিস্ফোরণে ছারখার গুজরাত। মাত্র ৫০ বলে ৮১ রান চলতি টুর্নামেন্টে তাঁর অন্যতম সেরা। অন্যদিকে, প্রায় গোটা টুর্নামেন্টে দাপট দেখালেও মোক্ষম সময়ে ব্যর্থ গুজরাত। শুক্রবার মূলত খারাপ ফিল্ডিংয়ের খেসারত দিতে হল শুভমান গিলদের। হিটম্যানের দু-দুটো ক্যাচ ফস্কানোর ফল ভুগতে হল ম্যাচ হেরে। শুরুতেই রোহিতকে ডাগ-আউটে ফেরাতে পারলে হয়তো কোটিপতি লিগ থেকে এভাবে বিদায় নিতে হতো না। রোহিতের জোড়া জীবনলাভের ঘটনায় অনেকেরই মনে পড়ছে, ১৯৯৯ বিশ্বকাপের কথা।
বার্মিংহামে দ্বিতীয় সেমি-ফাইনালে অস্ট্রেলিয়া বনাম দক্ষিণ আফ্রিকার ডুয়েল। স্টিভ ওয়ার সহজ ক্যাচ তালুবন্দি করতে ব্যর্থ হন হার্সেল গিবস। সেটাই হয়ে যায় টার্নিং পয়েন্ট। এরপরেই গিবসকে উদ্দেশ্য করে স্টিভ ওয়ার সেই অমর উক্তি, ‘তুমি তো ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপটাই ফেলে দিলে হে।’ ঠিক সেভাবেই মুল্লানপুরের মাঠে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল গুজরাত। ম্যাচের পর রোহিত শর্মার মন্তব্য, ‘উপরওয়ালাকে ধন্যবাদ। ভাগ্যের সহায়তাও ফ্যাক্টর। চলতি আইপিএলে চারটে হাফ-সেঞ্চুরি রয়েছে। আশা করি, আরও বড় আসবে। তবে ঝুঁকি থাকলেও এভাবেই চালিয়ে খেলব।’ ঝোড়ো ইনিংসের পর রীতিমতো আত্মবিশ্বাসী রোহিত গুরুনাথ শর্মা। অন্যদিকে, শুভমান গিলের গলায় একরাশ হতাশা। বলেছেন, ‘তিনটি ক্যাচ মিসই তফাত গড়ে দিল। মেনে নেওয়া ছাড়া কিছুই করার নেই।’
ক্রিকেট সার্কিটে জনপ্রিয় তত্ত্ব, ইনিংসের শুরুতে একটু নড়বড়ে থাকেন হিটম্যান। তখনই মিলতে পারে ক্যাচের সুযোগ। কিন্তু তা কাজে লাগাতে না পারলেই সর্বনাশ। সাদা বল বেলুনের মতো উড়ে যাবে গ্যালারিতে। এক ম্যাচে রোহিত শর্মার দুটো ক্যাচ ফস্কানো মানে প্রায়শ্চিত্তের জায়গা নেই। মুম্বইকর বলেছেন, ‘আগের ম্যাচেও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের চেষ্টা ছিল। কিন্তু প্রতিদিন সবকিছু ঠিক হয় না। এটাই ক্রিকেট।’ উল্লেখ্য, চলতি টুর্নামেন্টে মুম্বইয়ের হয়ে ৪১০ রান সংগ্রহ করেছেন রোহিত। দলের সর্বাধিক রান সংগ্রাহক সূর্যকুমার যাদব (৬৭৩)। পাশাপাশি দুরন্ত জয়ের পর তাঁর মুখে টিম স্পিরিটের প্রশংসা শোনা গেল। বিশেষ করে সদ্য দলে যোগ দেওয়া ওপেনিং পার্টনার জনি বেয়ারস্টোকে দরাজ সার্টিফিকেট দিয়েছেন রোহিত। হিটম্যানের মন্তব্য, ‘জনি ফর্মে থাকলে সঙ্গী ব্যাটারের কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়।’
ইতিমধ্যেই আইপিএল ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। খেতাবি লড়াইয়ে কোহলিদের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হবে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে। রবিবার সেই ম্যাচে মুখোমুখি মুম্বই ও পাঞ্জাব। টুর্নামেন্টের শুরুতে নড়বড়ে মুম্বইকে নিয়ে অতি বড় সমর্থকও আশাবাদী ছিলেন না। সেই দলই এখন অন্যতম ফেভারিট। রোহিত, বেয়ারস্টোর মঞ্চে মুম্বইয়ের জয়ের আর এক কারিগর যশপ্রীত বুমরাহ। উইকেটে জমে যাওয়া ওয়াশিংটন সুন্দরকে বোল্ড করে জয় নিশ্চিত করেন বুম বুম। তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। বলেছেন, ‘ওর মতো বোলার থাকা মানে অধিনায়কের কাজ সহজ হওয়া। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, বুমরাহর উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা রাখা যায়।’