


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অর্থের বিনিময়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেওয়া হচ্ছে ধর্মীয় (পড়ুন হিন্দুত্ব) সার্টিফিকেট। তাও আবার মতুয়া মহাসঙ্ঘের পক্ষ থেকে। এর জন্য সাধারণ মানুষকে অবগত করতে টাঙানো হয়েছে একাধিক ফ্লেক্স। আর এনিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক। মতুয়া সম্প্রদায়ের এই সংগঠন কীভাবে এই ধর্মীয় সার্টিফিকেট দিতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এর তীব্র বিরোধিতাই শুধু নয়, বৈধতা নিয়ে একগুচ্ছ প্রশ্ন তুললেন তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর। এদিকে এই ক্যাম্প বেআইনি বলে অনেক আগে রাজ্য ও কেন্দ্রের বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দিয়েছিলেন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ। এর সুরাহা হয়নি। তাই, বাধ্য হয়ে এবার হাইকোর্টে মামলা করতে চলেছেন গোপালবাবু।
বেশ কিছুদিন ধরে মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে দ্বন্দ্ব চলছে। পারিবারিক দ্বন্দ্ব ক্রমশ রাজনৈতিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। দুই ভাই শান্তনু ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুরের কাজিয়া এখন সর্বজনবিদিত। আর এই ঠাকুরবাড়ি ঢোকার মুখের নাটমন্দির থেকেই শুরু মানুষের ভিড়। সোমবারের পর মঙ্গলবারও ছিল সমান ভিড়। নাটমন্দিরের ক্যাম্পের দখল করেছেন কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর। চেয়ার, টেবিল পেতে কম্পিউটার নিয়ে বসে আছেন তাঁর ঘনিষ্ঠরা। মন্দিরের বাইরের দেওয়ালে ফ্লেক্স লাগিয়ে ছয়লাপ করা হয়েছে। সিএএর জন্য আবেদন করতে মতুয়া কার্ড ও ধর্মীয় শংসাপত্র সংগ্রহ করতে ঘন ঘন মাইকে ঘোষণাও চলছে। একই ভিড় গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক তথা শান্তনু ঠাকুরের দাদা সুব্রত ঠাকুরের বাড়ির সামনেও। আর সেই ফ্লেক্সে উপরে মতুয়াদের লাল নিশান। বড় করে লেখা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘ। এর নীচে হাইলাইটেড ‘হিন্দুত্ব ধর্মীয় সার্টিফিকেট’। তারপর লেখা আছে ‘এই অফিস হইতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ধর্মীয় সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।’আর এর তীব্র বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন তৃণমূল প্রভাবিত অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি মমতা ঠাকুর। তিনি বলেন, এভাবে কখনও ধর্মীয় সার্টিফিকেট দেওয়া যায় না। আর ওরা আমার নিয়ন্ত্রণে থাকা রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে বেআইনিভাবে কাজ করছে। আসলে এটা হল টাকা তোলার পদ্ধতি। কয়েকঘণ্টার মধ্যে এটা দেওয়ার জন্য ফলাও করে ঘোষণাও হচ্ছে মাইকে। শুনলেই কেমন একটা লাগছে! যদিও এনিয়ে সুব্রত ঠাকুর জানিয়েছেন, সিএএর জন্য এই ক্যাম্প করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে মতুয়া কার্ড। এটা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। তবে, মঙ্গলবারও ফোন তোলেননি শান্তনু।
এদিকে এই ক্যাম্পের বিরুদ্ধে আগেও সরব হয়েছেন বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠ। টাকার বিনিময়ে বেআইনিভাবে শান্তনু ঠাকুর মতুয়া কার্ড এবং ধর্মীয় শংসাপত্র করিয়ে দিচ্ছেন বলেও কেন্দ্র এবং রাজ্যকে অভিযোগ জানিয়েছিলেন তিনি। তারপরেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় এবার রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে মামলা করার কথা জানিয়েছেন গোপাল শেঠ। তিনি বলেন,বেআইনি ক্যাম্প করে বাংলাদেশিদের টাকার বিনিময়ে নাগরিকত্বের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্প নিয়ে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রদপ্তর,জাতীয় নির্বাচন কমিশন ছাড়াও রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে জেলাশাসকের কাছেও জানিয়েছি। সুরাহা না হওয়ায় এবার হাইকোর্টে মামলা করব