Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

ঝুঁকি নিয়ে ক্যাম্পে পৌঁছে দিত দুধ-লস্যি, খুদেকে সংবর্ধনা সেনার

পহেলগাঁওর রক্তাক্ত স্মৃতি এখনও দগদগে। আশঙ্কার দোলাচলে অনেকেই বাতিল করেছেন কাশ্মীর যাওয়ার টিকিট। কেউ বা খুঁজে নিয়েছেন নিরাপদ গন্তব্য। সীমান্তবর্তী বহু এলাকার বাসিন্দারা এখনও ভুগছেন ব্ল্যাক আউটের আতঙ্কে।

ঝুঁকি নিয়ে ক্যাম্পে পৌঁছে দিত দুধ-লস্যি, খুদেকে সংবর্ধনা সেনার
  • ২৯ মে, ২০২৫ ১৬:০৫
Prefer us on Google

চণ্ডীগড়: পহেলগাঁওর রক্তাক্ত স্মৃতি এখনও দগদগে। আশঙ্কার দোলাচলে অনেকেই বাতিল করেছেন কাশ্মীর যাওয়ার টিকিট। কেউ বা খুঁজে নিয়েছেন নিরাপদ গন্তব্য। সীমান্তবর্তী বহু এলাকার বাসিন্দারা এখনও ভুগছেন ব্ল্যাক আউটের আতঙ্কে। মনে হচ্ছে, যে কোনও সময় বেজে উঠতে পারে সাইরেন। হবে নাই বা কেন? ‘অপারেশন সিন্দুর’ পর্বে সীমান্তে মুহুর্মুহু  গোলা বর্ষণ চালাচ্ছিল পাক সেনা। কখন সেই গোলা আছড়ে পড়ে, সেই আতঙ্কে প্রতি মুহূর্তে তখন ভয়ে ভয়ে কাটছে সবার। সবার? না, একজন একটু ব্যতিক্রম। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘাত-প্রত্যাঘাতের আবহে পাঞ্জাবে সীমান্ত লাগোয়া তারা ওয়ালির মেঠো পথ ধরে এগিয়ে চলেছে একজন। না, তার গায়ে সেনার উর্দি নেই। হাতে নেই কোনও অস্ত্র। ভরসা বলতে অপরিসীম সাহস। সেই সাহসে ভর দিয়েই মুখে চওড়া হাসি নিয়ে হেঁটে চলেছে সে—শ্রবণ সিং। পাঞ্জাবের ফিরোজপুরের তারা ওয়ালির ওই খুদের গন্তব্য ভারতীয় সেনার ছাউনি। যাঁরা সীমান্তে নিজেদের প্রাণ দিয়ে দেশসেবা করছেন, তাঁদের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছে সে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কখন সেই ছাউনিতে যাওয়া নিরাপদ, এত গভীর হিসেবনিকেষ জানে না সে। শুধু বোঝে, এই গরমে সীমান্তে মোতায়েন জওয়ানদের দেখভাল করতে হবে। তাই যুদ্ধ আবহেও প্রতিদিন বাড়ির কাছের সেনা ক্যাম্পে জল, দুধ, লস্যি, বরফ নিয়ে পৌঁছে যেত সে।  পাঞ্জাবের ফিরোজপুরের বছর দশেকের সেই শ্রবণ সিংকে সাহসিকতার জন্য সংবর্ধনা জানাল ভারতীয় সেনা।

Advertisement

জানা গিয়েছে, সংঘর্ষের কারণে এলাকার বাকি খুদেরা যখন ভয়ে ঘরবন্দি, স্থানীয় কৃষক সোনা সিংয়ের ছেলে শ্রবণ তখন প্রতিদিন নিয়ম করে পৌঁছে যেত সেনা ক্যাম্পে। শ্রবণের কথায়, ‘বড় হয়ে ভারতীয় সেনায় যোগ দিতে চাই। তাই কখনও ভয় পাইনি। এই গরমে তাঁরা দেশের জন্য লড়াই করছেন। তাই আমিও তাঁদের সাহায্য করার চেষ্টা করেছি। জওয়ানরা আমায় খুব ভালোবাসতেন’। 
ইচ্ছে থাকলেই দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করা যায়। এর জন্য সবসময় সেনার উর্দি বা অস্ত্রের দরকার পড়ে না। খুদে শ্রবণ যেন সেকথাই আরও একবার মনে করিয়ে দিল। তার হাতে স্মারক তুলে দিয়েছেন মেজর জেনারেল রঞ্জিত সিং মানরাল। শ্রবণের কথায়, ‘সেনার তরফে আমায় খাবার, স্মারক দেওয়া হয়েছে। তাঁরা আমায় আইসক্রিমও খাইয়েছেন।’

সম্পর্কিত সংবাদ