হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সিনিয়রদের হয়রানিও র‍্যাগিং, পদক্ষেপের নির্দেশ ইউজিসির
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: প্রথম বর্ষে ভর্তির পর পড়াশোনা নয়, সিনিয়রদের হুকুম তামিল করতেই কেটে যায় জুনিয়রদের। ‘দাদা’দের নানাবিধ হয়রানিতে তটস্থ থাকে অনেকেই। এসব কুকর্মের অধিকাংশটাই চলে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে। আর ‘ইনফর্মাল’ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের কাজকর্মে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নেই। এই অছিলায় অভিযুক্ত ‘দাদা’দের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাও নেয় না সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এবার এই বিষয়েও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সৌজন্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি নির্দেশিকা। তাতে বলা হয়েছে, জুনিয়রদের হয়রানির জন্য তৈরি এইসব হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের উপর নজর রাখতে হবে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে। এইসব ‘দাদাগিরি’কে র‌্যাগিং হিসেবে ধরতে হবে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অ্যান্টি র‌্যাগিং আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে।  কেন এমন সিদ্ধান্ত? ইউজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবছর নবীন শিক্ষার্থীরা হয়রানির অভিযোগ করে থাকেন। তা রুখতেই এই উদ্যোগ। ইউজিসির এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে জুনিয়রদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিনিয়ররা। এরপর তাদের উপর মানসিকভাবে অত্যাচার করা হয়। এগুলিকে র‌্যাগিং হিসেবে বিবেচনা করে ব্যবস্থা নিতে হবে।’ এই নির্দেশিকা না মানলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের  আর্থিক সহায়তা বন্ধেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউজিসি। ওই আধিকারিক বলেন, ‘ক্যাম্পাসে পড়ুয়াদের নিরাপত্তাই আমাদের অগ্রাধিকার। এব্যাপারে কোনও ঢিলেমি করা যাবে না। র‌্যাগিং বিরোধী আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’  বেশ কিছু কাজকে ‘ছোটখাট’ বলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। সেগুলিকে র‌্যাগিংয়ের আওতায় আনা যায় কি না, তা নিয়ে বিতর্কও অনেক দিনের। তাই কোন ধরনের হয়রানিকে র‌্যাগিংয়ের আওতায় আনা হবে, তার উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। যেমন ‘দাদাদের’ কথা না শুনলে ক্যাম্পাসে বয়কটের মুখে পড়তে হয় জুনিয়রদের। এগুলিকেও অবহেলা করা যাবে না বলে নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে। 

Advertisement