আমেদাবাদ: কার্যত বিরামহীন ১৪৪ ধারার প্রয়োগ। এটাই যেন অলিখিত নিয়ম মোদিরাজ্য গুজরাতের আমেদাবাদের বিভিন্ন অংশে। বছরের পর বছর ধরে ১৪৪ ধারার এহেন লাগাতার প্রয়োগ নিয়ে এবার পুলিশকে একহাত নিল গুজরাত হাইকোর্ট। বিষয়টিকে ‘স্বেচ্ছাচারিতা, অযৌক্তিক ও মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনে’র সামিল বলেও উল্লেখ করেছে হাইকোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, একটি আপৎকালীন আইনকে কার্যত স্থায়ী রুলবুকে পরিণত করেছে গুজরাত পুলিশ। বেশ কয়েক বছর ধরেই পুলিশ একের পর এক ১৪৪ ধারার নির্দেশিকা জারি করেছে বলে অভিযোগ। বিরোধীদের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও জনসমাবেশ রুখতেই এই পথ নিয়েছে গুজরাতের বিজেপি সরকার।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর প্রতিবাদের জেরে গ্রেফতার করা হয়েছিল বেশ কয়েকজনকে। তাঁরাই গুজরাত পুলিশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। মামলাকারীদের দাবি, ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত কার্যত বিরামহীনভাবে ১৪৪ ধারা জারি করেছে পুলিশ। গত ৪ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি এমআর মেঙ্গডে’র পর্যবেক্ষণ, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে ১৪৪ ধারা জারি করার নিয়ম রয়েছে। সেটিকে লাগাতার ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের বিক্ষোভ-সমাবেশের মতো গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুন্ন করা হয়েছে। পাশাপাশি বিচারপতি উল্লেখ করেছেন, কী কারণে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা নিয়েও কোনও স্বচ্ছ ব্যাখা নেই পুলিশের। এমনকি বিধিনিষেধ যে জারি রয়েছে তা অনেকক্ষেত্রে জানেই না সাধারণ মানুষ। কারণ পুলিশের অফিসিয়াল গেজেটে উল্লেখ রয়েছে ১৪৪ ধারা জারি থাকার। যা সাধারণভাবে মানুষের নজরে পড়ে না। সরকারকে ভর্ৎসনা করে আদালত এদিন বলেছে, মৌলিক অধিকারের প্রশ্ন উঠলে সরকার কাগজের আড়ালে মুখ লোকাতে পারে না।