ভদোদরা: গুজরাতে সেতু বিপর্যয়ে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। বৃহস্পতিবার আরও তিনজনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। সব মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১৬। বৃহস্পতিবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অন্তত চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাঁদের হদিশ পেতে চলছে তল্লাশি। দুর্ঘটনার পর প্রায় দেড় দিন কেটে যাওয়ায় তাঁদের জীবিত উদ্ধার করা কঠিন বলেই মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল।
এর মধ্যে সেতু বিপর্যয় নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এদিন সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারকেই অযোগ্য বলে তেপে দেগেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে। তাঁর মতে, প্রকৃত নেতার অভাব, বেপরোয়া দুর্নীতি ও অযোগ্যতার কারণেই দেশে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটে চলেছে। এক্স হ্যান্ডলে খাড়্গে লিখেছেন, প্রতিদিন একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। ২০২১ সাল থেকে এপর্যন্ত গুজরাতে সাতটি সেতু ভেঙে পড়ল। গোটা দেশে সরকার পরিচালনার নামে শুধু ভাষণ ও বিজ্ঞাপনবাজি চলছে। মোদি সরকার ও বিজেপি নেতৃত্ব উদাসীনতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করেছে। এদের প্রশাসন চালানোর যোগ্যতা নেই। যোগ্য নেতৃত্বেরও অভাব রয়েছে। সেই সঙ্গে লাগামছাড়া দুর্নীতির কারণেই এই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। বুধবার মোরবি বিপর্যয়ের স্মৃতি ফিরিয়ে গুজরাতের ভদোদরার মহিসাগর নদীর উপর গম্ভীরা সেতুর একাংশ ভেঙে পড়ে। তার পরই ৪৫ বছর পুরনো এই ব্রিজের স্বাস্থ্য-পরিকাঠামো নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। ২০২২ সালের আগস্ট মাসে এই সেতুর বেহাল অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন সমাজকর্মী লক্ষ্মণ দরবার। যুবসেনা নামে একটি সংগঠন চালান তিনি। লক্ষণ জানিয়েছেন, তিন বছর আগে থেকেই সেতুর হাল খারাপ। বিষয়টি প্রশাসনেরও অজানা নয়। সড়ক ও বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকদের কাছে সেতুটি মেরামত করা বা নতুন সেতু তৈরির দাবি তুলেছিলাম। বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করেছিলেন আধিকারিকরাও। তা সত্ত্বেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সেই কারণেই এই বিপর্যয়। ইতিমধ্যেই দরবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের অডিও ক্লিপও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
গুজরাতে ফের ব্রিজ বিপর্যয় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইন্টারন্যাশনাল রোড ফেডারেশন (আইআরএফ)। জেনেভায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক সড়ক সুরক্ষা সংক্রান্ত এই সংগঠন সাফ জানিয়েছে, সেতু সহ সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় নিয়মিত নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ নজর দিতে হবে।