Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্যবসা

বিমায় জিএসটি হবে ‘শূন্য’, সিদ্ধান্ত মন্ত্রিগোষ্ঠীর, অপেক্ষা কাউন্সিল বৈঠকের

উপহারের ঝুলি দিয়ে লালকেল্লার ১০৩ মিনিটের ভাষণ সাজিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই মঞ্চ থেকেই তাঁর বার্তা ছিল, জিএসটিতে বড়সড় ছাড় আসতে চলেছে। দীপাবলির আগেই।

বিমায় জিএসটি হবে ‘শূন্য’, সিদ্ধান্ত মন্ত্রিগোষ্ঠীর, অপেক্ষা কাউন্সিল বৈঠকের
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ১৭:০৮
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: উপহারের ঝুলি দিয়ে লালকেল্লার ১০৩ মিনিটের ভাষণ সাজিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই মঞ্চ থেকেই তাঁর বার্তা ছিল, জিএসটিতে বড়সড় ছাড় আসতে চলেছে। দীপাবলির আগেই। সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দিল কেন্দ্র। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিরোধীরা দীর্ঘদিন ধরে যে দাবি করে এসেছেন, সেই বিমাক্ষেত্রেই। কারণ, বুধবারই মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত হয়েছে, জীবন ও স্বাস্থ্যবিমায় ব্যক্তিগত পলিসির উপর জিএসটি মকুব হবে। বর্তমানে স্বাস্থ্য ও জীবনবিমার প্রিমিয়ামের উপর ১৮ শতাংশ জিএসটি দিতে হয় গ্রাহককে। এদিনের মন্ত্রিগোষ্ঠীর বৈঠকে পণ্য ও পরিষেবা করের সেই হার ‘শূন্য’ করে দেওয়ার পক্ষেই সায় দেওয়া হয়েছে। ওই মন্ত্রিগোষ্ঠীর আহ্বায়ক তথা বিহারের উপ মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানিয়েছেন, কেন্দ্র বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রস্তাব দিয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের অর্থমন্ত্রীদের মতামত ও প্রশ্ন রিপোর্ট আকারে জিএসটি কাউন্সিলের কাছে জমা দেওয়া হবে। তারাই আসন্ন বৈঠকে এই সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত সিলমোহর দেবে। 

Advertisement

১৩ সদস্যের ওই ওই মন্ত্রিগোষ্ঠীতে পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও বিহার, তেলেঙ্গানা, উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, কর্ণাটক, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ, গোয়া, গুজরাত, মেঘালয়, পাঞ্জাব, তামিলনাড়ুর মন্ত্রীরা রয়েছেন। গোষ্ঠীর সদস্য পশ্চিমবঙ্গের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘বিমার প্রিমিয়ামের উপর জিএসটি মকুবের সুরাহা যাতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়, তার জন্য কাউন্সিলকে রূপরেখা তৈরির কথা বলেছে রাজ্যগুলি। কোনও সংস্থা যাতে প্রিমিয়াম বাড়িয়ে দিতে না পারে, সেটা দেখাটা কেন্দ্রের দায়িত্ব।’ তাঁর এই প্রতিক্রিয়ার কারণ? ইতিমধ্যেই একটি সূত্র থেকে ধারণা করা হচ্ছে, জিএসটি ‘শূন্য’ করে দিলেও শেষমেশ তার সুরাহা আম আদমি পাবে না। এখন যে প্রিমিয়াম জিএসটি সহ তাঁদের দিতে হয়, তখন প্রিমিয়াম তারই আশপাশে গিয়ে দাঁড়াবে। তেলেঙ্গানার উপ মুখ্যমন্ত্রী মাল্লু ভাট্টি বিক্রমার্ক জানান, ‘প্রায় সব রাজ্য এই প্রস্তাবে সায় রয়েছে। কিন্তু আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, জিএসটি মকুবের সুবিধা যেন গ্রাহকরা পান, বিমা সংস্থাগুলি নয়। এর জন্য কিছু একটা ব্যবস্থা করতে হবে। এই নিয়ে জিএসটি কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নেবে।’ যদি ব্যক্তিগত পলিসিকে জিএসটির আওতার বাইরে রাখা হয়, তাহলে বার্ষিক ৯ হাজার ৭০০ কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি হবে বলেও জানান তিনি। সেক্ষেত্রে কেন্দ্র বা বিমা সংস্থা—কেউই এতটা ক্ষতির মুখে পড়তে চাইবে না বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তাহলে অন্য কোনওভাবে সেই দায় সাধারণ মানুষের কাঁধেই চাপবে না তো? এই প্রশ্ন কিন্তু উঠছে। দীপাবলির উপহারও তাহলে স্রেফ গিফট প্যাক হয়েই থেকে যাবে সাধারণ মানুষের কাছে। ভিতরটা উপহার ‘শূন্য’।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ