


পুরী: বাঙালির অন্যতম প্রিয় পর্যটনস্থল পুরীতে এবার আমিষে কড়াকড়ি। জগন্নাথ মন্দিরের দু’কিলোমিটারের মধ্যে মাছ-মাংস-ডিম বিক্রি বা খাওয়া, কোনওটাই করা যাবে না। শুধু তাই নয়, নিষেধাজ্ঞা জারি হতে চলেছে মদের উপরও। মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় এমনই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওড়িশার বিজেপি সরকার। রবিবার রাজ্যের আইন ও আবগারিমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দ্রণ এই ঘোষণার পাশাপাশি জানিয়েছেন, এর আওতায় পড়বে বারগুলিও। চলতি মাসের ২৭ তারিখ রথযাত্রা। তার আগেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি হবে কি না, তা অবশ্য খোলসা করেননি মন্ত্রী। তবে সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই এই নিয়ে ‘বিধি’ আনতে চলেছে সরকার।
এরইমধ্যে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে মন্দির শহর পুরীকে। কাল, বুধবার জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা। প্রতি বছরের মতো এবারও বহু পুণ্যার্থীর জগন্নাথ মন্দিরে আসার কথা। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, বুধবার পুরীর নিরাপত্তায় থাকবে ৭০ প্ল্যাটুন পুলিস বাহিনী। এছাড়াও মোড়ে মোড়ে এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসানো হচ্ছে এআই যুক্ত ক্যামেরা। স্নানযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। তার মধ্যেই সামনে এসেছে এই বিধি জারির ঘোষণা। নির্দিষ্ট করে মন্ত্রী গ্র্যান্ড রোডের উল্লেখ করেছেন। জগন্নাথ মন্দির এবং মাসির বাড়ি বলে পরিচিত গুণ্ডিচা মন্দিরের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে এই সড়কপথ। রথযাত্রার সময় এই গ্র্যান্ড রোড ধরেই জগন্নাথদেব, বলভদ্র এবং শুভদ্রাকে নিয়ে পুরীর মন্দির থেকে গুণ্ডিচা মন্দিরে যায় শোভাযাত্রা। সেই ঐতিহ্যবাহী রাস্তার পুরোটাই থাকছে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায়। মন্ত্রী বলেন, ‘গ্র্যান্ড রোড বরাবর কোনও মদের দোকান বা বার থাকবে না। এছাড়া মাংস বিক্রি এবং আমিষ খাবারও নিষিদ্ধ করা হবে।’
প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী তথা ভ্রমণ পিপাসু বাঙালি পুরী যান। মন্দিরের পাশাপাশি সমুদ্র সৈকত, নন্দনকানন, কোণারক মন্দির, উদয়গিরি-খণ্ডগিরি, চিল্কা হ্রদ ঘুরে দেখেন তাঁরা। থাকার জন্য বেছে নেন স্বর্গদ্বার, চক্রতীর্থ রোড বা লাইট হাউসের মতো জায়গা। তবে, ওড়িশার বিজেপি সরকারের দু’কিলোমিটারের নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকছে এই স্থানগুলি। মন্দির থেকে এই সব স্পটের দূরত্ব কিছুটা বেশি।
রবিবার মন্ত্রী জানিয়েছেন, গ্র্যান্ড রোড বরাবর বাড়িগুলির গঠনে সামঞ্জস্য আনার পরিকল্পনা করছে সরকার। সম্প্রতি মন্দির সংলগ্ন নির্মাণগুলিতে সামঞ্জস্য আনতে গৃহ ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের কাছে নির্দেশিকা জারির আর্জি জানায় মন্দির তদারকির দায়িত্বে থাকা শ্রীজগন্নাথ টেম্পল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসজেটিএ)। এরপরই সরকারের পক্ষ থেকে মন্দির এবং পুরো গ্র্যান্ড রোড বরাবর নির্মাণগুলিতে সামঞ্জস্য আনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।