


নয়াদিল্লি ও নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ১৯৩৬ সালে আর্জেন্টিনায় আবিষ্কৃত মমির বয়স অনুমান করা হয় ৬ হাজার বছর! ১৯২৫ সালে আবিষ্কৃত তুতেনখামেনের মমির বয়স ছিল ৩৩০০! কখনও আত্মার সঙ্গে শরীরের পুনঃমিলনের প্রয়াস, কখনও বিশেষ সম্মান প্রদর্শন। মমির উদ্দেশ্য বহুবিধ। কিন্তু ‘জেন জি’ যুগে মানুষ মৃত্যুর পর আর তুতেনখামনের মতো নশ্বর দেহ নিয়ে ‘অমরত্ব’ চাইছেন না। তাঁরা চাইছেন আক্ষরিক অর্থেই ‘অমরত্বের প্রসাদ’। অর্থাৎ দীর্ঘ ঘুমের পর ফের জেগে উঠতে। যেন এতদিন কিছুই হয়নি। তাঁরাও মারাও যাননি আদপে। দেড়শো বছর ঘুমের পর ঠিক যেমন জেগে উঠেছিলেন সনাতন বিশ্বাস। বিজ্ঞানী অঘোর সেনের আবিষ্কৃত অমৃতবিন্দুর সুবাদে। ‘পাতালঘর’ উপন্যাসের সেই ভাবনারই প্রতিধ্বনি শোনা গেল জার্মানির এক সংস্থার ঘোষণায়। টুমরো বায়ো’র দাবি, মৃত্যুর পর দেহকে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত রাখবে তারা। তবে এর জন্য খরচ হবে প্রায় দু’কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই অন্তত ৭০০ জন এই পরিষেবায় নাম নথিভুক্ত করেছেন বলে দাবি জার্মান সংস্থার।
পোশাকি নাম ‘ক্রায়োনিকস’। বিজ্ঞানের এক বিতর্কিত শাখা। যেখানে মানুষের দেহকে ক্রায়ো-প্রিজারভেশন পদ্ধতিতে মৃত্যুর পর তরল নাইট্রোজেনে সংরক্ষিত করা হয়। যত সময় যাচ্ছে, পৃথিবীজুড়ে আগ্রহ বাড়ছে এই পদ্ধতির মাধ্যমে মৃত্যুর পরও ‘দ্বিতীয় সুযোগ’ পেতে। আর সেই কারণে এই পদ্ধতিতে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য দেশে-বিদেশে টুমরো বায়ো’র মতো গজিয়ে উঠছে একাধিক সংস্থা। শুধু আমেরিকাতেই তৈরি হয়েছে সাতটি সংস্থা। বাকিগুলির কোনওটা আছে অস্ট্রেলিয়ায়, কোনওটা জামার্নিতে। চীনেও রয়েছে একটি। দেশের একমাত্র এমন সংস্থা আবার রয়েছে কলকাতায়! প্রত্যেকেরই দাবি, তারা নিখুঁতভাবে, ফের জেগে ওঠার মতো করে মৃতদেহ সংরক্ষণ করতে অত্যন্ত দক্ষ। যদিও বহু দেশই এই ব্যাপারকে আজও আইনি স্বীকৃতি দেয়নি। এই পদ্ধতিতে অমরত্বের জন্য খরচ পড়বে ২৮ হাজার থেকে ২ লক্ষ ২০ হাজার ডলার! শুধু মস্তিষ্ক সংরক্ষণ করার খরচ পড়বে ৮০ হাজার ডলার! আমেরিকায় ২০১৪ সালে এভাবে দেহ সংরক্ষণ করেছিলেন ২৫০ জন। বর্তমানে বিশ্বের কয়েক হাজার মানুষ দেহ সংরক্ষণের জন্য গাঁটের কড়ি খসাতে প্রস্তুত।
ক্রায়োনিকস কি বিজ্ঞান নাকি হাতুড়ে বিদ্যা? বোস ইনস্টিটিউটের মলিকিউলার মেডিসিনের অধ্যাপক ও ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস-এর এমিরিটাস প্রফেসর ডাঃ গৌরীশঙ্কর শা বলেন, বহু কোষকে আমরা কিন্তু ক্রায়োপ্রিজারভেশন পদ্ধতিতেই বাঁচিয়ে রেখেছি। যেমন, হেলা কোষ। ১৯৫১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত জীবিত। আমার গবেষণাগারেও হেলা কোষ নিয়ে কাজ করি। শেষে আবার তরল নাইট্রোজেনে রেখে দিই। দরকার পড়লে আবার কাজে লাগানো হয়। তাই এই পদ্ধতির পিছনে প্রমাণিত বিজ্ঞান আছে।
ক্রায়োনিকস
অমরত্বের বিতর্কিত বিজ্ঞান!
মৃতদেহকে মাইনাস ৯০-১৯৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সংরক্ষণ করা হয়
ব্যবহার করা হয় লিকুইড নাইট্রোজেন
উদ্দেশ্য একটাই, ভবিষ্যতে আধুনিক বিজ্ঞান যদি সেই দেহে প্রাণদান করতে পারে
এখনও পর্যন্ত কয়েকশো মানুষের দেহ এইভাবে সংরক্ষিত হয়েছে। সর্বনিম্ন সংরক্ষিত মৃতদেহের বয়স ২ বছর
খরচ ২৮ হাজার থেকে ২ লক্ষ ২০০ ডলার